বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (PMO) দাফতরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি কার্যালয়ে পৌঁছালে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। সাধারণ ছুটির দিনেও প্রধানমন্ত্রীর এই কার্যালয়মুখী হওয়াকে প্রশাসনের স্থবিরতা কাটানো এবং ‘Administrative Efficiency’ বা প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ছুটির দিনেও সচল প্রশাসন: এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সারা দেশে সাধারণ ছুটি থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এদিন দাফতরিক কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি ফেরানোর স্বার্থে ছুটির দিনেও অফিস করার এই বিশেষ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। শনিবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তেজগাঁও কার্যালয়ে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। প্রধানমন্ত্রীর এই সক্রিয়তা সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে ‘Work Culture’ বা কাজের সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুরোনো সহকর্মীদের সঙ্গে আবেগঘন পুনর্মিলন
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবেশের সময় এক অনন্য ও আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কার্যালয়ের মূল ভবনে প্রবেশের আগে সেখানে কর্মরত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে যারা এই কার্যালয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তাঁদের অনেককেই নাম ধরে ডাকেন প্রধানমন্ত্রী। অনেক পুরোনো কর্মীকে কাছে টেনে নিয়ে কথা বলেন তিনি। দেশের শীর্ষ নেতার এমন আন্তরিকতা ও ‘Personal Touch’ দেখে উপস্থিত অনেক কর্মচারীই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। দীর্ঘ সময় পর প্রিয় অভিভাবককে কাছে পেয়ে কার্যালয় চত্বরে এক উৎসবমুখর ও আবেগপ্রবণ পরিবেশ তৈরি হয়।
প্রকৃতি ও প্রার্থনায় নতুন যাত্রার সূচনা
তাঁর প্রথম কর্মদিবসের কার্যক্রম শুরু হয় পরিবেশবান্ধব এক উদ্যোগের মাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় চত্বরে একটি ‘স্বর্ণচাঁপা’ ফুলের চারা রোপণ করেন তিনি। এরপর দেশের কল্যাণ ও জনগণের সমৃদ্ধি কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম (অব.) সহ সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মোনাজাত শেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁর জন্য নির্ধারিত কক্ষে প্রবেশ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ দাফতরিক ফাইলগুলো পর্যালোচনা করে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করেন।
নতুন নেতৃত্বের অধীনে সংস্কারের অঙ্গীকার
বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তেজগাঁও কার্যালয়ে নিয়মিত অফিস শুরু করার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় এক নতুন গতির সঞ্চার হলো। তাঁর এই পদক্ষেপে ‘Good Governance’ বা সুশাসন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার প্রকাশ পায়। জাতীয় স্বার্থে সময় ও শ্রমের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তাঁর এই ‘Leadership’ দৃষ্টান্তমূলক হয়ে থাকবে।