বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সংশ্লিষ্ট নথি থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জানা গেছে, সুস্পষ্ট অভিযোগ উল্লেখ করে প্রসিকিউটর সুলতানের অপসারণের অনুরোধ জানিয়ে তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে গত ১১ জানুয়ারি চিঠিটি পাঠান।
অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পাওয়া তাজুল ইসলামের নিয়োগ গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বাতিল করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। সেদিনই তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুর্নীতি ও বিচারপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ আনেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেড় মাস আগে সুলতান মাহমুদকে অপসারণের বিষয়ে তৎকালীন আইন উপদেষ্টাকে তাজুল ইসলামের চিঠি দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।
সেই চিঠিতে তাজুল ইসলাম বলেছেন, প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ট্রাইব্যুনালের গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যন্ত গোপনীয় তথ্যাদি বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করছেন বলে তিনি জেনেছেন। চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের অনুমোদন ছাড়াই স্বপ্রণোদিতভাবে প্রসিকিউটর হিসেবে মামলার গুরুত্বপূর্ণ ও গোপনীয় তথ্য আইনবহির্ভূতভাবে অন্যত্র সরবরাহ একটি বেআইনি কর্মকাণ্ড এবং তদন্ত ও বিচারাধীন স্পর্শকাতর মামলার জন্য গুরুতর নিরাপত্তা হুমকি।
চিঠিতে তাজুল ইসলাম প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যন্ত গোপনীয় তথ্যাদি বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহের অভিযোগ করেন। গানম্যানের ওপর নির্যাতন এবং স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগও করা হয় ওই চিঠিতে। তিনি লেখেন, সুলতান মাহমুদের কর্মকাণ্ড ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং আদালতের ভাবমুর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
তাজুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ হাইকোর্টের অ্যানেক্স ভবনের লিফটে যাতায়াতের সময় হাইকোর্টের নিরাপত্তা প্রহরী মো. মাঈন উদ্দিনকে তুচ্ছ ঘটনাক্রমে উত্তেজিত হয়ে অস্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং জোর করে তাকে গানম্যান দিয়ে ধরে বার অ্যাসোসিয়েশনের অফিসকক্ষে নিয়ে যান। তারপর মাঈন উদ্দিনকে প্রচণ্ড মারধর করেন। এতে তার চোয়াল, হাত, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ জখম হয়। গুলি করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় তাকে। সুলতান মাহমুদের এমন কর্মকাণ্ডে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম ও ট্রাইব্যুনালের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।
তাজুল ইসলাম আরও বলেন, বিভিন্ন অভিযোগে এ পর্যন্ত চার জন গানম্যান স্বেচ্ছায় সুলতান মাহমুদের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে অপারগতা জানান। এমন অবস্থায় তাৎক্ষণিক গানম্যান পরিবর্তন করে দিতে হয়।
তাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সুলতান মাহমুদ তার স্ত্রীকে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে নির্যাতন করেন। এ বিষয়ে তার স্ত্রী অভিযোগ দাখিল করেছেন।