মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার ও তুচ্ছ পারিবারিক বিবাদকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়। দফায় দফায় ককটেল বিস্ফোরণ আর দেশীয় অস্ত্রের ঝনঝনানিতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
তৃণমূলের রেষারেষি ও তাৎক্ষণিক উত্তেজনা স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বালিয়া গ্রামের নাসির হাওলাদারের সঙ্গে একই এলাকার আয়উব আলী মাতবরের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক আধিপত্য (Social Domination) নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বুধবার সকালে আয়উব আলীর মেয়ে সুমাইয়ার সঙ্গে নাসির হাওলাদারের স্ত্রী রুনি বেগমের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর জেরে দুপুরে নাসিরের স্ত্রী ও মেয়ে মিলে সুমাইয়াকে মারধর করেন। এই তুচ্ছ ঘটনাটিই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালে।
ককটেল বিস্ফোরণ ও এলাকার আতঙ্ক দুপুরের ওই বিবাদকে কেন্দ্র করে রাত ৮টার দিকে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র (Local Weapons) নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ককটেলের বিকট শব্দে স্থানীয় বাসিন্দারা দিকবিদিক ছুটতে শুরু করেন। সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে এবং মাদারীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অভিযানে নামে পুলিশ এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (RAB)। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর (Law Enforcement Agencies) উপস্থিতিতে দুই পক্ষের লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। বর্তমানে এলাকায় বাড়তি উত্তেজনা বিরাজ করছে, যা মোকাবিলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, “সংঘর্ষের খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিবেশ শান্ত রয়েছে। তবে পুনরায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং দ্রুত আইনি পদক্ষেপ (Legal Action) গ্রহণ করা হবে।”
মাদারীপুর ও শরীয়তপুর অঞ্চলে গ্রামীণ আধিপত্যকে কেন্দ্র করে ককটেল বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের ঘটনা দীর্ঘদিনের সামাজিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, কেবল পুলিশি তৎপরতা নয়, বরং স্থায়ী শান্তি বজায় রাখতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন।