• দেশজুড়ে
  • দুর্গম পাহাড়ে প্রসূতি মায়েদের জীবন ঝুঁকিতে, হাসপাতাল নেই"

দুর্গম পাহাড়ে প্রসূতি মায়েদের জীবন ঝুঁকিতে, হাসপাতাল নেই"

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
দুর্গম পাহাড়ে প্রসূতি মায়েদের জীবন ঝুঁকিতে, হাসপাতাল নেই"

অসীম রায় (অশ্বিনী),বান্দরবান জেলা ,প্রতিনিধি:

রেমাক্রীতে প্রসূতি মায়েদের দুর্ভোগ, স্বাস্থ্যসেবা নেই"

"পাহাড়ি এলাকায় প্রসূতি মায়েদের জীবন বাঁচাতে হাসপাতাল দরকার"

বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম গ্রাম রেমাক্রীতে প্রসূতি মায়েদের জীবন ঝুঁকিতে। পাহাড়, ঝিরি আর নদী পেরিয়ে চিকিৎসা নিতে হয় এই গ্রামের মানুষদের। যোগাযোগের একমাত্র উপায় নদীপথ। শহরে যেতে পাড়ি দিতে হয় অন্তত ৫০ কিলোমিটার। সময় কম করেও চার ঘণ্টা।

রেমাক্রীর ১৩ হাজার বাসিন্দার অন্তত পাঁচ হাজার নারী। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ প্রসূতি মায়েদের। গর্ভাবস্থায় কোনো স্বাস্থ্যসেবা মেলে না। বিপদ হয় তখন, যখন সন্তান জন্ম দেয়া নিয়ে কোনো জটিলতা দেখা দেয়।

বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম গ্রাম রেমাক্রী। পাহাড়, ঝিরি আর নদী পেরিয়ে চিকিৎসা নিতে হয় এই গ্রামের মানুষদের। যোগাযোগের একমাত্র উপায় নদীপথ। শহরে যেতে পাড়ি দিতে হয় অন্তত ৫০ কিলোমিটার। সময় কম করেও চার ঘণ্টা। রেমাক্রীর ১৩ হাজার বাসিন্দার অন্তত পাঁচ হাজার নারী।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ প্রসূতি মায়েদের। গর্ভাবস্থায় কোনো স্বাস্থ্যসেবা মেলে না। বিপদ হয় তখন, যখন সন্তান জন্ম দেয়া নিয়ে কোনো জটিলতা দেখা দেয়।

বাসিন্দারা বলেছেন, প্রসূতি মায়েদের অনেক অসুবিধা হয়। অসুস্থ হলে সেখানে কোনো হাসপাতাল নেই।

ওয়ং নুচিং মারমা, রেমাক্রী বাজারের ছোট্ট এক ক্লিনিকেই প্রসূতি মায়েদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তার ক্লিনিকেই ছুটে আসেন গর্ভবতী মায়েরা। তার হাত ধরে এই পাহাড়ে জন্ম হয়েছে শতাধিক শিশুর।

রেমাক্রীর অস্থায়ী ক্লিনিকের এই স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, ‘রেমাক্রী ইউনিয়নে আছে পাঁচটি জাতি।

এই দুঃখ-দুর্দশা থেকে যেন মুক্তি মেলে এজন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’

একজন গর্ভবতী নারী বলেন, ‘আশেপাশে কোনো হাসপাতাল নাই। এই ক্লিনিকটা খুব কাছে, তাই এসেছি। রাস্তা নাই, নৌকা ভাড়াও বেশি। ডাক্তার বাচ্চা প্রসবের সময় এখানে আসতে বলেছে।’

আরেকজন গর্ভবতী নারী বলেছেন, ‘বাচ্চার কি অবস্থা সেটা জানতে ডাক্তারের কাছে এসেছি। ডাক্তার আছে বলে দেখাতে পেরেছি। কাছে তাই গাড়ি ভাড়াও তেমন লাগেনা আর আমরাও খুশি।’

রেমাক্রী থেকে থানচি যাবার পথটি বর্ষায় হয়ে ওঠে আরও বিপজ্জনক। অনেক সময় দুর্গম পথেই বাচ্চা প্রসব হয়ে যায়। কেউ বা মারাও যায়।

আরেক নারী বলেন, ‘এখানে কোনো হাসপাতাল নেই। কেউ কেউ পেট ব্যথা নিয়ে নদী পথেই মারা যায়। দুর্গম এলাকায় কোনো ডাক্তার আসে না। অনেকের বাচ্চা মারা যায়। গর্ভবতী মায়েরা হাসপাতালে গেলে পেট ব্যথা নিয়ে আবার ফিরে আসে।’

আরেক নবজাতকের মা বলেন, ‘এখানে হাসপাতাল ও ডাক্তার থাকলে ভালো হতো। ধনীরা শহরে গিয়ে সিজার করে। আমি তিন দিন তিন রাত পেটে বাচ্চা নিয়ে ব্যথায় ভুগেছি। পরে অনেক কষ্ট করে হাসপাতালে গিয়ে সিজার করেছি।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য বলছে, গত বছরে এই এলাকায় প্রসূতি ছিলেন ৫৪ জন। গত চার বছরে জন্ম নিয়েছে ৭২০টি শিশু। তাদের মধ্যে প্রতিবন্ধী হয়েছে অন্তত ১০ জনের বেশি।

থানচি পরিবার পরিকল্পনার সহকারী পরিচালক মংসিং উ মারমা বলেন, ‘এখানে একমাত্র ভরসা অস্থায়ী ইউনিয়ন পরিবার স্বাস্থ্যকেন্দ্র, যদি একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয় তাহলে অন্তত স্বাস্থ্যসেবা থেকে এলাকাবাসী বঞ্চিত হবে না বলে আমি মনে করি।’

দুর্গম অঞ্চলে প্রসূতি মায়েদের ঝুঁকি কমাতে উদ্যোগ নেয়ার কথা জানালেন জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ।

রেমাক্রী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুশৈথুই মারমা বলেন, ‘রেমাক্রী ইউনিয়নের মধ্যে সরকারিভাবে কোনো ক্লিনিক না থাকা এবং নেটওয়ার্ক না থাকার কারণে শিশু জন্মদানে সমস্যা হচ্ছে।’

বান্দরবান জেলার সিভিল সার্জন শাহীন হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বরাবরই চেষ্টা করি আমাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যারা আছেন তাদেরকে দিয়ে মানুষকে সচেতন করার জন্য। সচেতন করে যদি তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি আমরা নিশ্চিত করতে পারি তবেই শিশু মৃত্যুর হার এবং মাতৃ মৃত্যুর হার অনেকাংশে কমানো যাবে।’

এখন নিরাপদ মাতৃত্বই দুর্গম রেমাক্রীর মায়েদের একমাত্র চাওয়া।

Tags: এলাকায় মায়েদের পাহাড়ি প্রসূতি বন বাঁচাতে