• দেশজুড়ে
  • পটুয়াখালীর বাউফলে মালিকানা বিরোধে স্থগিত ব্রিজ নির্মাণ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন

পটুয়াখালীর বাউফলে মালিকানা বিরোধে স্থগিত ব্রিজ নির্মাণ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
পটুয়াখালীর বাউফলে মালিকানা বিরোধে স্থগিত ব্রিজ নির্মাণ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন

এইচ এম মোজাহিদুল ইসলাম নান্নু:

পটুয়াখালীর বাউফলের বগা ইউনিয়নের রাজনগর ৪নং ওয়ার্ডের আকন পাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পুরাতন আয়রন ব্রিজ পুনর্নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি ) সকাল ১১ টায় আকন পাড়ায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আকন পাড়ার পুরাতন আয়রন ব্রিজটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ২০০-২৫০ জন মানুষ এই ব্রিজ ব্যবহার করে বগা বাজার ও স্থানীয় মসজিদে যাতায়াত করেন। ব্রিজটির অবস্থা নাজুক হওয়ায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এলাকাবাসী জানান, তাদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ত্রাণের একটি ব্রিজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে সম্প্রতি সাইড সিলেকশন জটিলতার কথা উল্লেখ করে ব্রিজটি কৌখালী এলাকায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের এখানে চারটি বাড়ি এবং প্রায় ২০০-২৫০ জন মানুষের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা এই ব্রিজ। দীর্ঘদিন ধরে আমরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি। ব্রিজ বরাদ্দ পাওয়ার পরও এখন তা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।

আরেক বাসিন্দা রবিউল আকন বলেন, মসজিদ খালের ওই পাড়ে হওয়ায় প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য আমাদের এই ব্রিজ পার হতে হয়। ভাঙা ব্রিজ দিয়ে নিয়মিত চলাচল করা সম্ভব হয় না। আমরা চাই, আমাদের এখানেই ব্রিজটি নির্মাণ করা হোক।

এ বিষয়ে বাউফলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, জায়গা সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়েছে। প্রায় দুই বছর আমরা অপেক্ষা করেছি। নির্ধারিত স্থানের জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ ছিল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজেকে জমির মালিক দাবি করে সেখানে কাজ করলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেন। এ অবস্থায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন,একটি উন্নয়ন কাজ অনির্দিষ্টকাল বন্ধ রাখা যায় না। তাই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ব্রিজটি অন্যত্র স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা স্থানীয়দের বলেছি, জমির বিরোধ মিটমাট হলে এবং নতুন করে বরাদ্দ এলে সেখানে ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। বিষয়টি আমরা তাদের বুঝিয়েছি। ঠিকাদার কাজ শুরু করার জন্য মালামালও নিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। আগামীতে বরাদ্দ পাওয়া গেলে ওই স্থানেই ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।