দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার ‘পাওয়ার কাপল’ (Power Couple) বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশমিকা মন্দানার সাত বছরের দীর্ঘ প্রেম অবশেষে পরিণয়ে রূপ নিয়েছে। রাজস্থানের উদয়পুরে এক রাজকীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে জীবন কাটানোর অঙ্গীকার (Wedding Vows) করেছেন এই তারকা জুটি। তবে কেবল জৌলুসপূর্ণ আয়োজনই নয়, এই বিয়েকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলের শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি ও শুভকামনা এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। বিশেষ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর দেওয়া বিশেষ উপহার ও আশীর্বাদ এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ চিঠি ও আভিজাত্যের ছোঁয়া বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগে দিল্লিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন বিজয় ও রাশমিকা। সেই সাক্ষাতের স্মৃতি রোমন্থন করে বিজয় দেবেরাকোন্ডা গণমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো তাদের জন্য ছিল অত্যন্ত গর্বের। মোদি কেবল তাদের আশীর্বাদই করেননি, বরং বিজয়ের বাবা-মায়ের উদ্দেশে নিজের হাতে একটি বিশেষ চিঠি লিখে পাঠিয়েছেন।
সাক্ষাতকালে তারা ভারতীয় সংস্কৃতি ও স্থাপত্যশৈলী (Indian Heritage and Architecture) নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত স্তরের এই আন্তরিকতা নবদম্পতিকে অভিভূত করেছে। বিজয়ের মতে, এটি কেবল একটি চিঠি নয়, বরং তাদের পরিবারের জন্য একটি অমূল্য ‘স্মারক’।
অমিত শাহর গণেশ মূর্তি ও সিনেমার ভবিষ্যৎ ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গেও এই তারকা যুগলের বৈঠক ছিল বেশ ফলপ্রসূ। অমিত শাহ তাদের আশীর্বাদস্বরূপ একটি পবিত্র গণেশ মূর্তি উপহার দিয়েছেন। বিজয় জানান, উপহার পাওয়া সেই মূর্তিটি বর্তমানে তাদের হায়দরাবাদের বাড়ির প্রার্থনাকক্ষে (Prayer Room) পরম শ্রদ্ধায় স্থাপন করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপচারিতায় উঠে এসেছে ভারতীয় সিনেমা ও এর বৈশ্বিক প্রভাবের বিষয়টি। দক্ষিনী সিনেমার বর্তমান উত্থান ও আন্তর্জাতিক বাজারে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে অমিত শাহর গভীর পর্যবেক্ষণ বিজয়কে মুগ্ধ করেছে। বিজয়ের ভাষায়, "স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের ভারতীয় সিনেমার ‘গ্লোবাল রিচ’ এবং বর্তমান ‘মার্কেট ট্রেন্ড’ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।"
লাল শাড়িতে মোহময়ী রাশমিকা ও ‘কুনজর’ থেকে বাঁচার টোটকা উদয়পুরের বিয়ের অনুষ্ঠানে রাশমিকা মন্দানার লুক ছিল এককথায় অনবদ্য। ঐতিহ্যবাহী লাল রঙের জমকালো বেনারসি শাড়ির সঙ্গে ভারী সোনার গয়নায় তাকে দেখাচ্ছিল যেন কোনো রাজকুমারী। তবে সব জৌলুসের মাঝে নেটিজেনদের নজর কেড়েছে রাশমিকার গালের একটি কালো তিল বা ‘কালো টিকা’।
জানা গেছে, ভারতীয় বিয়ের চিরন্তন রীতি অনুযায়ী নববধূর সৌন্দর্যকে ‘কুনজর’ (Evil Eye) থেকে রক্ষা করতে এই তিল লাগানো হয়েছিল। এই বিশেষ মেকআপ ডিটেইলটি রাশমিকার সারল্য ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাকেই ফুটিয়ে তুলেছে।
হায়দরাবাদে গ্র্যান্ড রিসেপশন ও পরবর্তী পরিকল্পনা উদয়পুরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নবদম্পতি এখন হায়দরাবাদে অবস্থান করছেন। আগামী ৪ মার্চ শহরটির একটি অভিজাত ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তাদের ‘Wedding Reception’ বা বিবাহোত্তর সংবর্ধনা। সেখানে বিনোদন জগত থেকে শুরু করে ক্রীড়া ও রাজনৈতিক মহলের হাই-প্রোফাইল অতিথিদের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাত বছরের গোপন প্রেমকে জনসম্মুখে পূর্ণতা দিয়ে বিজয়-রাশমিকা এখন নতুন জীবনের ‘গোলস’ সেট করতে ব্যস্ত।