• আন্তর্জাতিক
  • সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশ্বনেতাদের জয়জয়কার: অনন্য উচ্চতায় মোদি, ট্রাম্পের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশ্বনেতাদের জয়জয়কার: অনন্য উচ্চতায় মোদি, ট্রাম্পের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশ্বনেতাদের জয়জয়কার: অনন্য উচ্চতায় মোদি, ট্রাম্পের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে

ইনস্টাগ্রামে ১০ কোটির ক্লাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী, ডিজিটাল কূটনীতিতে পিছিয়ে ট্রাম্প-এরদোয়ানরা; জনমত জরিপেও বজায় থাকল শীর্ষস্থান

ডিজিটাল যুগে বিশ্বনেতাদের প্রভাব এখন আর কেবল নীতি-নির্ধারণী টেবিলে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ছড়িয়ে পড়েছে স্মার্টফোনের স্ক্রিনেও। ভার্চুয়াল জগতে জনমত গঠন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের দৌড়ে আবারও নিজের অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থান প্রমাণ করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জনপ্রিয় ফটো ও ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে (Instagram) অনুসারীর সংখ্যায় বিশ্বনেতাদের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি।

ডিজিটাল উপস্থিতিতে মোদির একাধিপত্য সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নরেন্দ্র মোদির ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ১০ কোটি (১০০ মিলিয়ন) ছাড়িয়ে গেছে। বৈশ্বিক রাজনীতিকদের মধ্যে এই কৃতিত্ব কেবল তারই। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুসারী সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ৩২ লাখ। সংখ্যার এই বিশাল ব্যবধান স্পষ্ট করে দেয় যে, ডিজিটাল এনগেজমেন্টের (Digital Engagement) ক্ষেত্রে মোদি বিশ্বমঞ্চে কতটা প্রভাবশালী। এই তালিকায় অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোবো সুবিয়ান্তো (১ কোটি ৫০ লাখ), ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা (১ কোটি ৪৪ লাখ) এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান (১ কোটি ১৬ লাখ)। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জেভিয়ার মিলাই ৬৪ লাখ অনুসারী নিয়ে এই তালিকায় নিজের অবস্থান জানান দিয়েছেন।

প্রথাগত মাধ্যম বনাম ইন্টারঅ্যাকটিভ প্ল্যাটফর্ম ২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ইনস্টাগ্রামে যাত্রা শুরু করেছিলেন মোদি। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই প্ল্যাটফর্মটিকে তার 'ডিজিটাল ডিপ্লোম্যাসি' বা ডিজিটাল কূটনীতির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। প্রথাগত গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার চেয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি ভিডিও বার্তা ও ছবির মাধ্যমে ইন্টারঅ্যাকটিভ (Interactive) যোগাযোগ রাখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছাতে এবং নিজের কাজের নিয়মিত আপডেট দিতে তিনি ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়ের আশ্রয় নেন, যা তাকে সমসাময়িক অন্যান্য নেতাদের তুলনায় এগিয়ে রেখেছে।

জনপ্রিয়তার পারদ ও বৈশ্বিক স্বীকৃতি কেবল সোশ্যাল মিডিয়ায় নয়, বাস্তব রাজনীতির ময়দানেও মোদির জনপ্রিয়তার গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। ২০২৫ সালের নির্বাচিত বিশ্বনেতাদের অনুমোদন জরিপ বা 'অ্যাপ্রুভাল রেটিং' (Statista Approval Rating) অনুযায়ী, দেশীয় জনপ্রিয়তার ক্ষেত্রেও তিনি শীর্ষে রয়েছেন। এই জরিপে দেখা গেছে, মোদির পক্ষে অনুমোদন রয়েছে ৭০ শতাংশ মানুষের, যেখানে নেতিবাচক বা 'অসম্মতি' রয়েছে মাত্র ২৩ শতাংশের কাছে। এটি প্রমাণ করে যে, টেক-স্যাভি (Tech-savvy) নেতা হিসেবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তার যে আধিপত্য, তার প্রতিফলন তৃণমূল পর্যায়ের জনমতেও বিদ্যমান।

ইসরায়েল সফর ও বিশেষ সম্মাননা বর্তমানে দুই দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে ইসরায়েলে অবস্থান করছেন নরেন্দ্র মোদি। এই সফর চলাকালীন তাকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ইসরায়েলের সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘স্পিকার অব দ্য নেসেট মেডেল’ প্রদান করা হয়। এই পদক প্রাপ্তি মোদির আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং ভারতের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক শক্তিরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সব মিলিয়ে, সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পদক—সবক্ষেত্রেই নরেন্দ্র মোদি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজের অবস্থান সুসংহত করেছেন।

Tags: social media donald trump political influence narendra modi instagram followers israel visit global ranking world leaders digital diplomacy statista rating