বান্দরবানে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ৮ ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনের আওতায় দায়েরকৃত একাধিক মামলার শুনানি শেষে বান্দরবান সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও স্পেশাল পরিবেশ আদালতের বিচারক মো. আনোয়ার হোসেন উক্ত পরোয়ানা জারি করেন।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া ব্যক্তিরা হলেন:
- থানচি উপজেলার এমএসবি ইটভাটার মালিক ও যুবলীগ নেতা আনিসুর রহমান সুজন
- আলীকদম উপজেলার এবিএম ইটভাটার মালিক আওয়ামী লীগ নেতা সামছুদ্দিন ও এখলাচুর রহমান
- ইউবিএম ইটভাটার মালিক, আলীকদম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন
- এফবিএম ইটভাটার মালিক ও সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রীর ভাই শওকত তালুকদার
- নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিবিএম ইটভাটার মালিক মোহাম্মদ আবু ছৈয়দ, আবুল বশর ও ফরিদ আহমদ
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, অবৈধভাবে ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
বান্দরবান পার্বত্য জেলায় পরিবেশ আইন অমান্য করিয়া অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগে সাবেক এক উপজেলা চেয়ারম্যানসহ আটজন ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করিয়াছেন আদালত। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনের আওতায় দায়েরকৃত একাধিক মামলার শুনানি শেষে বান্দরবান সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও স্পেশাল পরিবেশ আদালতের বিচারক মো. আনোয়ার হোসেন উক্ত পরোয়ানা জারি করেন। রবিবার (১ মার্চ) আদালতের পেশকার মাহবুব কাদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আদালত ও পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করিয়া প্রায় ৭০টি ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে। উক্ত ভাটাগুলোর মধ্যে বর্তমানে প্রায় ৪২টি ইটভাটা সচল অবস্থায় রয়েছে। ইতিপূর্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে একাধিক অভিযান পরিচালনা করিয়া কয়েকটি ভাটাকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং বুলডোজার ও স্কেভেটরের সাহায্যে আংশিকভাবে ভেঙে ফেলা হয়। তথাপি অধিকাংশ ক্ষেত্রে অবৈধ কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা সম্ভব হয় নাই।
পরিবেশ অধিদপ্তর পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত) এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এর আওতায় পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করে। উক্ত মামলাগুলোর শুনানি শেষে পাঁচটি মামলায় মোট আটজন ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, থানচি উপজেলার এমএসবি ইটভাটার মালিক ও যুবলীগ নেতা আনিসুর রহমান সুজন (মামলা নং–০৩/২৬); আলীকদম উপজেলার এবিএম ইটভাটার মালিক আওয়ামী লীগ নেতা সামছুদ্দিন ও এখলাচুর রহমান (মামলা নং–০৫/২৬); ইউবিএম ইটভাটার মালিক, আলীকদম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন (মামলা নং–০৪/২৬); এফবিএম ইটভাটার মালিক ও সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রীর ভাই শওকত তালুকদার (মামলা নং–০২/২৬); এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিবিএম ইটভাটার মালিক মোহাম্মদ আবু ছৈয়দ, আবুল বশর ও ফরিদ আহমদ (মামলা নং–০১/২৬)।
আদালতের পেশকার মাহবুব কাদের জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়েরকৃত মামলাগুলোর শুনানি শেষে অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ আদালতে হাজির না হওয়ায় বিচারক তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করিয়া আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, অবৈধভাবে ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করিয়া প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং একাধিক অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকিবে।
আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম বলেন, অবৈধ ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলাগুলো জামিন অযোগ্য ধারায় অন্তর্ভুক্ত। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করিবার জন্য পুলিশের সহিত সমন্বয়পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।
পরিবেশবিদদের মতে, পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে অবৈধ ইটভাটা স্থাপনের ফলে বন উজাড়, পাহাড় কাটা ও বায়ুদূষণের মাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাইতেছে। দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হইলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের উপর দীর্ঘমেয়াদি মারাত্মক প্রভাব পড়িবার আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ গত ২৮ শে ফেব্রুয়ারি ফাইতং এলাকায় অবৈধ দুইটি ইটভাটায় উপজেলা প্রশাসনের অভিযান ৩ লাখ টাকা জরিমানা, বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং এলাকায় অবৈধ দুইটি ইটভাটায় উপজেলা প্রশাসনের অভি*যান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মঈন উদ্দিন। KBC ও BBM নামের দুটি ইটভাটায় বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় KBC ইটভাটাকে ৩ লাখ টাকা এবং BBM ইটভাটাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। এই অভিযানে ৫টি ইটভাটাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম জানিয়েছেন, অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ফাইতং ইউনিয়নে ৩১টি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে, যেগুলোর অধিকাংশই পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। এই ইটভাটাগুলোর কারণে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে এবং স্থানীয় কৃষকরা চরম সংকটে পড়েছেন ।
অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এই অভিযানটি উপজেলা প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর আগে, এই এলাকায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ৫টি ভাটাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় ¹।