• দেশজুড়ে
  • পলাশবাড়ীতে স্বামীর নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে: ১৮ ঘণ্টা পর লাশ উদ্ধার

পলাশবাড়ীতে স্বামীর নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে: ১৮ ঘণ্টা পর লাশ উদ্ধার

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
পলাশবাড়ীতে স্বামীর নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে: ১৮ ঘণ্টা পর লাশ উদ্ধার

পলাশবাড়ী উপজেলা প্রতিনিধি : আরিয়ান রাকিব

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় দাম্পত্য কলহের জেরে আমেনা বেগম (৩০) নামের এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। হত্যার পর এটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে লাশ ঘরের বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। প্রায় ১৮ ঘণ্টা মেঝেতে পড়ে থাকার পর সোমবার (২ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। উপজেলার পবনাপুর ইউনিয়নের পূর্ব ফরিদপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব ফরিদপুর গ্রামের নয়া মিয়ার ছেলে হানিফ মিয়ার (৩৫) তৃতীয় স্ত্রী ছিলেন আমেনা বেগম। তিনি এক সন্তানের জননী। স্থানীয়দের অভিযোগ, হানিফ একাধিক মামলার আসামি এবং এলাকায় উশৃঙ্খল প্রকৃতির লোক হিসেবে পরিচিত। তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন। ঢাকা থেকে মাঝে মাঝে গ্রামের বাড়িতে এসে তিনি আমেনা বেগমের ওপর অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন কিশোর ও প্রতিবেশী জানান, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে রোববার (১ মার্চ) দুপুরেও আমেনাকে মারধর করেন হানিফ। এরপর ওই দিন ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে হানিফকে তড়িঘড়ি করে বাইসাইকেলে বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে বাড়ির লোকজন ঘরে গিয়ে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় আমেনাকে দেখতে পান। তবে তার নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে ছিল। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পবনাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান ও স্থানীয় ইউপি সদস্য খায়রুল ইসলাম রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, "আমি এর আগেও কয়েকবার শালিস-বৈঠকের মাধ্যমে তাদের পারিবারিক দ্বন্দ্ব নিরসনের চেষ্টা করেছি। রোববারের ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। খবর পেয়ে আমি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যাই এবং পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করি।"

সোমবার সকালে পলাশবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। স্থানীয়রা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষী হানিফকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।