অনুপ্রেরণা হলো একটি অভ্যন্তরীণ শক্তি যা মানুষকে লক্ষ্য অর্জনের জন্য পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে । সাফল্য পেতে চাইলে নিজেই নিজেকে অনুপ্রাণিত করতে হয । এতে নিজের লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করে। ইচ্ছা আর কঠোর পরিশ্রম যে একজন মানুষকে বদলে দিতে পারে, তার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার গোলাছড়ি এলাকার বাসিন্দা মনিতা চাকমা। পাঁচ বছর আগে স্বামীকে হারিয়ে চার ছেলে-মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেন তিনি। সেই সময়ের নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারে আজ বইছে সচ্ছলতার বাতাস। সামান্য পুঁজি নিয়ে নিজের বাড়ির আঙিনায় হলুদ চাষ শুরু করে আজ তিনি শুধু স্বাবলম্বীই নন, বরং পুরো পরিবারের অন্নের সংস্থান করছেন একাই। মনিতার জীবন যুদ্ধটা সহজ ছিল না। স্বামী হারানোর পর থেকেই নিজ হাতেই প্লাস্টিকের ঝুঁড়ি ব্যাগ তৈরি করে সামান্য আয়ে কোনোমতে দিন পার করতে হতো তাকে। এমন পরিস্থিতিতে বসে না থেকে গত তিন বছর আগে কৃষি বিভাগের পরামর্শে বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত জমিতে হলুদ চাষ শুরু করেন তিনি। মনিতা চাকমা জানান, শুরুতে তিনি স্থানীয় জাতের হলুদের চারা রোপণ করেছিলেন। পরিশ্রম আর সঠিক পরিচর্যার ফলে ফলন আশাতীত ভালো হয়। প্রথম বছরই খরচ বাদ দিয়ে তার প্রায় ১০ হাজার টাকা লাভ হয়। এই লাভ তাকে আরও উৎসাহিত করে। বর্তমানে তিনি ১ হেক্টর জমিতে হলুদ চাষ করছেন। তিনি আরো জানান, বর্তমানে তিনি কাঁচা হলুদগুলো তাড়াতাড়ি শুকানোর জন্য দেশীয় পদ্ধতিতে একটি ড্রামে করে আগুনে সিদ্ধ করেন। এতে তাঁর সময় লাগে মাত্র ১৫ থেকে ২০ দিন। পরে এগুলো পাইকারী বা খুচরা বিক্রি করেন। এছাড়াও অবসর সময়ে প্লাস্টিকের ঝুঁড়ি ব্যাগও তৈরি করেন। তিনি জানান, "হলুদ এমন একটি ফসল যাতে সার বা কীটনাশকের খরচ কম। একবার লাগালে প্রায় সাত থেকে দশ মাস পর ফসল তোলা যায়। এই ফসল চাষে পরিশ্রম থাকলেও মুনাফা বেশ ভালো।" স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে মনিতা তার উৎপাদিত হলুদ স্থানীয় বাজারে পাইকারি ও খুচরা উভয়ভাবেই বিক্রি করেন। বাজারে খাঁটি হলুদের ভালো চাহিদা থাকায় তাকে বিক্রির জন্য বেগ পেতে হয় না। হলুদ বিক্রির লভ্যাংশ দিয়ে তিনি ঘরের মেরামত করেছেন এবং সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাচ্ছেন। তারা আরো জানান, মনিতার এই অভাবনীয় সাফল্য দেখে গ্রামের অন্যান্য নারীরাও এখন নিজ বাড়ির আঙিনায় বা পতিত জমিতে হলুদ ও অন্যান্য মসলাজাতীয় ফসল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। কেন না কোনো কাজই ছোট নয়। সঠিক পরিকল্পনা আর শ্রম থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব। তার এই রঙিন স্বপ্ন এখন আরও বড় হওয়ার পথে। রাঙ্গামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, মনিতা চাকমা মতো নারীরা এগিয়ে এলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। আমরা ইতোমধ্যে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন উপজেলায় হলুদ চাষে প্রায় ৩০০ জনকে প্রণোদনা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়েছি। তার সাফল্য এলাকার নারীদের জন্য একটি মডেল।" তিনি আরো জানান, এবার রাঙ্গামাটি জেলায় প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে হলুদ চাষ করছে কৃষক ।
হলুদ বিক্রি করে সংসার খরচ যোগান দিচ্ছে মনিতা চাকমা
দেশজুড়ে
১ মিনিট পড়া
দেবদত্ত মুৎসুদ্দী ,রাঙ্গামাটি।