• দেশজুড়ে
  • ন্যায়বিচারের পথে চব্বিশের বিপ্লব: শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায় ৯ এপ্রিল

ন্যায়বিচারের পথে চব্বিশের বিপ্লব: শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায় ৯ এপ্রিল

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
ন্যায়বিচারের পথে চব্বিশের বিপ্লব: শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায় ৯ এপ্রিল

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অকুতোভয় শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন; ৩০ আসামির ভাগ্য নির্ধারিত হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।

চব্বিশের ছাত্র-জনতার মহাবিপ্লবের প্রথম ও প্রধান প্রতীক, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদ হত্যার বিচারের মাহেন্দ্রক্ষণ ঘনিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ (ICT-2) এই ঐতিহাসিক মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৯ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিচারিক প্যানেল উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।

বিচারিক প্রক্রিয়ার সারসংক্ষেপ ও চার্জশিট গত বছরের ৩০ জুন আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের (Crimes Against Humanity) অভিযোগে ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জশিট বা অভিযোগপত্র আমলে নিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। পুরো বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ (Investigation Officer) মোট ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। প্রসিকিউশন পক্ষ দাবি করেছে, তারা আবু সাঈদকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যার বিষয়টি অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে আদালতে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।

আসামিদের প্রোফাইল: কাঠগড়ায় যারা এই চাঞ্চল্যকর মামলার ৩০ জন আসামির মধ্যে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নাম রয়েছে। বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা ৬ জন শীর্ষ আসামি হলেন: ১. শরিফুল ইসলাম (সাবেক প্রক্টর, বেরোবি) ২. রাফিউল হাসান রাসেল (সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার) ৩. মো. আনোয়ার পারভেজ (রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের প্রাক্তন চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী) ৪. আমির হোসেন (পুলিশের সাবেক এএসআই) ৫. সুজন চন্দ্র রায় (সাবেক কনস্টেবল) ৬. ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ (নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা)

এছাড়াও মামলার অন্যতম প্রধান আসামি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য (VC) হাসিবুর রশীদসহ আরও ২৪ জন আসামির বিরুদ্ধে এই হত্যাকাণ্ডে উস্কানি ও সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

সেই রক্তঝরা ১৬ জুলাই: যেখান থেকে ইতিহাসের শুরু ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই। কোটা সংস্কার আন্দোলন (Quota Reform Movement) যখন তুঙ্গে, তখন রংপুরের পার্ক মোড়ে পুলিশের বন্দুকের নলের সামনে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দাঁড়িয়েছিলেন ২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ। নিরস্ত্র এই শিক্ষার্থীর ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণের সেই ভিডিওটি মুহূর্তেই সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে এক অবিস্মরণীয় গণবিস্ফোরণে রূপান্তর করে।

ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক (Coordinator) আবু সাঈদের সেই আত্মত্যাগই ছিল শেখ হাসিনা সরকারের পতনের টার্নিং পয়েন্ট। তার রক্তের সিঁড়ি বেয়েই গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশে এক নতুন রাজনৈতিক সূর্যের উদয় ঘটে।

গণহত্যার বিচার ও আগামীর প্রত্যাশা জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার যে নজিরবিহীন গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠিত করেছে, তার বিচার এখন দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান। আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় এই বিচারিক ধারায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। দেশের সাধারণ মানুষ ও ছাত্রসমাজ এখন ৯ এপ্রিলের দিকে তাকিয়ে আছে, যেখানে আবু সাঈদের খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের নতুন অধ্যায় সূচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Tags: rangpur news student protest human rights mass uprising ict bangladesh court update quota movement abu sayeed verdict date justice for martyrs