জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’-এর জন্য মনোনীতদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এ বছর দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় এই সম্মাননা পাচ্ছেন ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠান। সংস্কৃতি অঙ্গনে অসামান্য অবদানের জন্য এ বছর এই পুরস্কারে ভূষিত হচ্ছেন জনপ্রিয় টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত এবং উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী বশির আহমেদ (মরণোত্তর)।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মনোনীতদের এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাজের স্বীকৃতি দিতেই প্রতিবছর এই রাষ্ট্রীয় পদক প্রদান করা হয়।
সংস্কৃতির দুই নক্ষত্র: হানিফ সংকেত ও বশির আহমেদ
দেশের সংস্কৃতি ও বিনোদন জগতে হানিফ সংকেত একটি অবিচ্ছেদ্য নাম। সামাজিক সচেতনতা এবং সুস্থ বিনোদনের প্রসারে তাঁর পরিচালিত জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’ কয়েক দশক ধরে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। এবার তাঁর সেই দীর্ঘ পথচলাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের জনপ্রিয় প্লেব্যাক সিঙ্গার (Playback Singer) বশির আহমেদকে মরণোত্তর এই সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। তাঁর কালজয়ী কণ্ঠ আর সুরের মূর্ছনা আজও বাংলা সংগীতের অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। সংগীত জগতে তাঁর এই আজীবন সাধনাকে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ স্বীকৃতি প্রদানের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সংস্কৃতিকর্মীরা।
দেশগঠন ও গণতন্ত্রে বিশেষ সম্মাননা
স্বাধীনতা, গণতন্ত্র রক্ষা এবং নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সামগ্রিক ও ঐতিহাসিক অবদানের জন্য এ বছর মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হচ্ছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এছাড়া জনপ্রশাসনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কাজী ফজলুর রহমানকেও (মরণোত্তর) এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ ও চিকিৎসা খাতে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি
মহান মুক্তিযুদ্ধ ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য মেজর মোহাম্মদ আব্দুল জলিলকে (মরণোত্তর) মনোনীত করা হয়েছে। পাশাপাশি এই বিভাগে প্রাতিষ্ঠানিক সম্মাননা পাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ। চিকিৎসা বিজ্ঞানে অভাবনীয় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে (ডিএমসিএইচ) এই গৌরবময় পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
সমাজসেবা ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা
সমাজসেবা ও জনসেবার ক্ষেত্রে এ বছর একাধিক ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মানিত করা হচ্ছে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে মরণোত্তর এই সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও মো. সাইদুল হক এবং মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর) এই তালিকায় রয়েছেন। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে এস ও এস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র পুরস্কার পাচ্ছে।
বিজ্ঞান, গবেষণা ও ক্রীড়াঙ্গনের স্বীকৃতি
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অধ্যাপক ড. জহুরুল করিমের অবদানকে সম্মান জানানো হচ্ছে। গবেষণা ও প্রশিক্ষণে বিশেষ অবদানের জন্য মোহাম্মদ আবদুল বাকী (পিএইচডি), অধ্যাপক ড. এম এ রহিম এবং অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া মনোনীত হয়েছেন। এছাড়া সাহিত্যে ড. আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর) এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রে দেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান লিনুকে এই পুরস্কার প্রদান করা হবে।
পল্লী উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (PKSF) এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আব্দুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু) রাষ্ট্রীয় এই সম্মাননা পাচ্ছেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শিগগিরই রাজধানী এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মনোনীতদের হাতে এই সম্মাননা পদক ও সনদ তুলে দেয়া হবে। প্রতিবছর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকার এই পুরস্কার প্রদান করে থাকে।