রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক এডভোকেট মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন বলেছেন, প্রশাসক হিসেবে আমার প্রথম কাজ হবে বৈষম্যদুর করা। আমার সাথে যারা থাকবেন তারা যেমন নিরাপদ থাকবেন, তেমনি যারা আমার সাথে থাকবেন না তারাও নিরাপদ থাকবেন। কারো প্রতি কোন প্রকার বৈষম্য দেখানো হবে না। দলমতের উর্ধে থেকে নাগরিকদের যে প্রাপ্য সুবিধা আমরা দিতে চাই। নাগরিকরা যাতে সহজে তার সেবা পান সে বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে নগরভবনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ে এ কথা বলেন তিনি।
রসিক প্রশাসক বলেন, দলীয় পরিচয় বিবেচ্য নয়, দলমত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতায় নাগরিকদের জন্য প্রশাসক নয় সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। যেখানে সমন্বিত উদ্যোগে একটি পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন ও গ্রীন সিটি করাই হবে মুল লক্ষ।
বাজেট বৈষম্য নিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাজেট বৈষম্যের কবলে রংপুর। দেশের অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন থেকে এই বাজেট বৈষম্যের কারনে আমরা অনেক পিছিয়ে। আমাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। আমরা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বাজেট বৈষম্য কমিয়ে আনতে সবধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রংপুরের বাজেট বৈষম্যের বিষয়ে অবহিত। তিনি আমাদের সাথে আছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রংপুরের উন্নয়নে খুবই আন্তরিক। আগামী দিনে রংপুরের উন্নয়নে সবাইকে সাথে পরিকল্পিত উন্নয়ন করতে চাই।
শ্যামাসুন্দরী খাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের রংপুরের ফুসফুস খ্যাত শ্যামাসুন্দরী খাল দীর্ঘ পরিকল্পনার অভাবে আজ অপরিচ্ছন্ন ভাগারে পরিণত হয়েছে। এজন্য প্রথমে শ্যামাসুন্দরী খালের উন্নয়নে স্বল্প মেয়াদী উদ্যোগ নিয়ে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এরপর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে শ্যামা সুন্দরীকে নগরীর জন্য উপহার দিতে চাই। এজন্য সময়ের প্রয়োজন। আমাদের পরিকল্পনা করে এগিয়ে যেতে হবে।
এর আগে সকাল ৯ টায় নগরভবনে নবনিযুক্ত প্রশাসক এডভোকেট মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন পৌছান। পরে সিটি কর্পোরেশনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কুশল বিনিময় করে নগর ভবনের প্রতিটি সেকশনে যান এবং নগরভবন ঘুরে ঘুরে দেখেন।
উল্লেখ্য গত শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে স্থানীয় সরকারের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন।