ইরান ও ইজরায়েলের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে দেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাতক্ষীরার তালা উপজেলাতেও জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট। গত ২০ দিনেরও অধিক সময় ধরে দেশে শুরু হয়েছে এই জ্বালানি তেলের সংকট। তালা কৃষি অফিস সুত্রে বলছে উপজেলায় ২০ হাজার ৫ শ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। দিনের পর দিন এভাবে জ্বালানি তেল সংকটের ফলে বোরো চাষীদের মাথায় হাত উঠতে বসেছে। কিন্তু কৃষি অফিস বলছে বর্তমানে বোরো চাষীদের আইডি কার্ড নিয়ে তালিকা হালনাগাদ করছে যা থেকে চাষীদের কে হয়তো কিছু সুবিধা দিতে পারে সরকার।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কথা হয় বোরো চাষীদের সাথে, খলিলনগরের আলাউদ্দীন মোড়ল, আবু সাঈদ মোড়ল, নলতা গ্রামের একব্বার মোড়ল, জাহিদ শেখ, মাসুদুজ্জামান রনি, তালা ইউনিয়নের রহিমাবাদ গ্রামের আজিজুল শেখ, আয়ুব আলী, তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের তেরছি গ্রামের রেজাউল মোড়ল, আমিনুর গাজী, ইসলামকাটী ইউনিয়নের সুজনশাহা গ্রামের আকবর আলী গাজী, সেলিম গাজীসহ আরো অনেক চাষীরা জানান, যে ভাবে তেল সংকট দেখা দিয়েছে তাতে এবার বোরো আবাদ শেষ করা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তারা বলেন, কোথায় ও কোন পাম্পে তেল নেই। বাজারে যা দুইএক জায়গাই আছে তার মুল্য লিটার প্রতি ১৮০ টাকা থেকে ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে যা ক্রয় ক্ষমতা চাষীদের নাগালের বাইরে। আর পাম্পে সপ্তাহে দুই এক দিন যা দিচ্ছে তাও পরিমানে মাত্র ২ লিটার। যার ১০ বিঘা জমি বোরো আবাদ আছে তার ২ লিটার তেলে কি হবে। এসময় চাষীরা আরোও বলেন সরকার বলছে তেল এখনো মজুদ আছে তেলের ঘাটতি নেই। তাহলে তেলের এমন অবস্থা হবে কেন? আর এমন ঘাটতি যদি তেলের চলতে থাকে তাহলে বোরো আবাদ অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। চাষীসহ তালার সর্বস্তরের জনগণ সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের নিকট তেল সংকট নিরসনের জোর দাবি জানান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাজিরা খাতুন জানান, তালা উপজেলায় ২০ হাজার ৫ শ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এভাবে তেল সংকট থাকলে বোরো আবাদ অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। আমরা অফিস থেকে চাষীদের আইডি কার্ড নিয়ে তালিকা হালনাগাদ করছি দেখি সরকার কোন ভাবে কোন সহায়তা দিতে পারে কিনা।
এব্যাপারে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ হোসনেয়ারার সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে ফোন রিসিভ না করায় তার মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।