স্মৃতিতে অম্লান বীর সন্তানরা
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ যখন দোয়ারে কড়া নাড়ছে, তখন দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে অকুতোভয় প্রাণ উৎসর্গকারী সহকর্মীদের ভোলেনি বাংলাদেশ পুলিশ। কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন বিসর্জন দেওয়া সেইসব বীর সদস্যদের পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে এক বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)। এই মহতী উদ্যোগের অংশ হিসেবে বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে যশোর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক আবেগঘন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে শোকাতুর ৫টি পরিবারের হাতে আইজিপি মহোদয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ ঈদ উপহার ও শুভেচ্ছা বার্তা তুলে দেওয়া হয়েছে।
আইজিপির ভালোবাসা ও পুলিশ সুপারের মমত্ব
বুধবার বেলা ২টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ ছিল পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে আসা সম্মাননা ও সহমর্মিতা। বাংলাদেশ পুলিশের সম্মানিত ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) জনাব মোঃ আলী হোসেন ফকির-এর পক্ষ থেকে প্রেরিত এই ঈদ শুভেচ্ছা বার্তা ও বিশেষ উপহার সামগ্রী আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন যশোর জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব সৈয়দ রফিকুল ইসলাম পিপিএম সেবা।
উপহার হস্তান্তরের সময় প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন পুলিশ সুপার। স্বজন হারানো এই পরিবারগুলোর বর্তমান অবস্থা ও যাপিত জীবনের সুখ-দুঃখের খোঁজ নেন তিনি। এ সময় এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদেরও স্পর্শ করে।
‘যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকবে জেলা পুলিশ’
অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে শহীদ পুলিশ সদস্যদের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “আপনারা আপনাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন দেশের মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তার (Public Safety) জন্য। এই ঋণ কোনো উপহার দিয়ে শোধ করা সম্ভব নয়। তবে বাহিনীর অভিভাবক হিসেবে আইজিপি মহোদয় এবং আমরা সবসময় আপনাদের পাশে আছি।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, এই ৫টি পরিবার এখন বাহিনীর অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের যেকোনো সমস্যা বা জরুরি প্রয়োজনে জেলা পুলিশ সবসময় অভিভাবকের মতো ছায়ার মতো পাশে থাকবে এবং বাহিনীর পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
মানবিক পুলিশ ও সাংগঠনিক দায়বদ্ধতা
বাংলাদেশ পুলিশের এই ধরণের উদ্যোগ কেবল একটি বাহিনীর দাপ্তরিক কাজ নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী ‘Duty of Care’ বা মানবিক দায়বদ্ধতার অনন্য দৃষ্টান্ত। উৎসবের সময়ে শহীদ পরিবারগুলোর একাকিত্ব দূর করতে এবং তাদের আত্মত্যাগকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানাতে এই ধরণের কর্মসূচি বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের মনোবল বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরাও শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। ঈদ উপহারের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় স্বজনহারা পরিবারগুলোর মুখে ক্ষণিকের হাসি ফুটলেও, বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া স্থায়ী সমর্থনের প্রতিশ্রুতিই ছিল এদিনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।