এক মাস সিয়াম সাধনার পর ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে বাংলাদেশে আজ (শনিবার) পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। চিরচেনা ২২ গজের লড়াই, ড্রেসিংরুমের উত্তেজনা আর গ্যালারির গর্জন থেকে দূরে থেকে আজ উৎসবে মেতেছেন দেশের ক্রিকেটাররা। বছরের অধিকাংশ সময় খেলার চাপে পরিবারের বাইরে কাটাতে হলেও, এই বিশেষ দিনটিতে নাড়ির টানে আপনজনদের কাছে ছুটে গিয়েছেন জাতীয় দলের প্রতিনিধিরা।
সাত সমুদ্র পাড়ে সাকিবের ঈদ, বগুড়ায় ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’
বাংলাদেশ ক্রিকেটের পোস্টার বয় সাকিব আল হাসান এবার ঈদ উদযাপন করছেন সুদূর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটাতে তিনি এখন সেখানে অবস্থান করছেন। তবে সাকিবের এবারের ঈদে বাড়তি চমক হয়ে এসেছেন পেসার আল আমিন হোসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা Social Media-তে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, সাকিবের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন আল আমিনও।
অন্যদিকে, অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম বরাবরের মতোই শিকড়ের টানে ফিরে গেছেন বগুড়ায়। নিজের শহর আর চেনা মানুষের মাঝেই তার ঈদের আসল আনন্দ। সকালে ছেলে এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্থানীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় করেছেন তিনি। নামাজের পর ভক্তদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সেই বিশেষ মুহূর্তের ছবি মুশফিক তার ডিজিটাল হ্যান্ডেলে পোস্ট করে সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
রাজধানীতে তামিম-তাসকিন, নাড়ির টানে রাজশাহীতে শান্ত
সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল এবার ঢাকাতেই ঈদ উদযাপন করছেন। ব্যক্তিগত জীবন ও ক্যারিয়ারের নানা টানাপোড়েনের মাঝে পরিবারের সঙ্গে একান্তে সময় কাটাচ্ছেন তিনি। তার সঙ্গে ঈদের আমেজে মেতেছেন স্পিডস্টার তাসকিন আহমেদও। বাবার হাত ধরে নিজের ছেলেকে নিয়ে ঈদগাহে নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে তাসকিনকে। তিন প্রজন্মের এই মেলবন্ধনের ছবি ইতিমধ্যে ইন্টারনেটে বেশ সাড়া ফেলেছে।
জাতীয় টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ঈদের ছুটি উপভোগ করছেন নিজের জন্মস্থান রাজশাহীতে। ব্যস্ত Captaincy-র দায়িত্ব থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন তিনি। এছাড়া অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে দেখা গেছে ময়মনসিংহে তার পৈতৃক নিবাসে। চেনা পরিবেশে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করাটাই রিয়াদের কাছে চিরকাল বিশেষ কিছু।
মক্কায় মিরাজ, গ্রামে ফিরেছেন তরুণ তুর্কিরা
অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের ঈদ এবার একটু ভিন্ন ও আধ্যাত্মিক। পবিত্র রমজান ও ঈদ উপলক্ষে তিনি বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। মক্কায় উমরাহ পালন ও ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়েই তার এবারের উৎসবের দিনটি কাটছে।
অন্যদিকে, জাতীয় দলের তরুণ পেস ইউনিট—হাসান মাহমুদ, নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলামরা ফিরে গেছেন যার যার গ্রামে। লক্ষ্মীপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ কিংবা পঞ্চগড়ের মেঠো পথেই তারা খুঁজে পাচ্ছেন শান্তির পরশ। আধুনিক ক্রিকেটের চাকচিক্য ছেড়ে শেকড়ের টানে এই ফিরে আসা যেন তাদের পরবর্তী সিরিজের জন্য নতুন প্রাণশক্তি যোগাবে।
ক্রিকেট ক্যালেন্ডারের ব্যস্ত সূচির কারণে অনেক সময়ই উৎসবের দিনগুলোতে মাঠের বাইরে থাকা সম্ভব হয় না টাইগারদের। তবে এবারের ছুটিতে ক্রিকেটারদের এই স্বতঃস্ফূর্ত পারিবারিক মুহূর্তগুলো ভক্তদের মাঝেও ছড়িয়ে দিচ্ছে বাড়তি উদ্দীপনা।