ঢালিউড থেকে বলিউড—আরিফিন শুভর জয়যাত্রার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সনি লিভ (Sony LIV)-এ মুক্তিপ্রাপ্ত ওয়েব সিরিজ ‘জ্যাজ সিটি’ (Jazz City) দিয়ে শুরুতেই বাজিমাৎ করেছেন এই অভিনেতা। সিরিজের প্রথম পর্ব প্রকাশের পর থেকেই দর্শকদের অকুন্ঠ প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। এরই মধ্যে নিজের নতুন অবতার নিয়ে ভক্তদের উদ্দেশ্যে একটি কৌতূহলী প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন শুভ, যা নিয়ে ডিজিটাল পাড়ায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
জেমস বন্ড বনাম জিমি রয়: শুভর সেই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট গত রোববার (২২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘জ্যাজ সিটি’র চারটি স্থিরচিত্র পোস্ট করেন আরিফিন শুভ। সেখানে তার লুকে সত্তরের দশকের আভিজাত্য ও রহস্যের এক মেলবন্ধন দেখা গেছে। ক্যাপশনে অভিনেতা বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই লিখেছেন, “জেমস বন্ডকে কে চায় যখন আমাদের নিজেদেরই জিমি রয় আছে?”
শুভর এই পোস্টের পর মন্তব্যের ঘরে ভক্তদের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ তাকে ‘বাংলার জেমস বন্ড’ বলে অভিহিত করেছেন, আবার কেউ জিমি রয় চরিত্রের ওল্ড স্কুল ভাইব (Old School Vibe) ও স্টাইলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। মূলত এই ‘জিমি রয়’ চরিত্রটির মাধ্যমেই বলিউডে নিজের শক্ত অবস্থান জানান দিলেন ঢাকার এই হ্যান্ডসাম হাঙ্ক।
সত্তরের দশকের উত্তাল পটভূমি ও ‘জ্যাজ সিটি’ সিরিজটি মূলত বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও সত্তরের দশকের সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে এর কাহিনি। প্রায় ১১ ঘণ্টার এই মহাকাব্যিক সিরিজে মোট ১০টি পর্ব রয়েছে। এর কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘জিমি রয়’, যার জীবনের টানাপোড়েন আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় গল্পের প্লট (Plot)। মুক্তিযুদ্ধকালীন গোয়েন্দা তৎপরতা এবং সেই সময়ের জ্যাজ মিউজিক কালচারের এক অনন্য মিশ্রণ দেখা গেছে সিরিজে।
ট্রেন্ডিংয়ের শীর্ষে এবং ভাষার বৈচিত্র্য গত ১৯ মার্চ মুক্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ‘জ্যাজ সিটি’ সনি লিভের ট্রেন্ডিং (Trending) তালিকার শীর্ষে উঠে আসে। সিরিজটির একটি বিশেষ দিক হলো এর ভাষাগত বৈচিত্র্য। হিন্দি, ইংরেজি ও উর্দুর পাশাপাশি এটি বাংলা ভাষাতেও মুক্তি পেয়েছে। সনি লিভের মতো বড় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোনো অরিজিনাল সিরিজ এভাবে পূর্ণাঙ্গ বাংলায় মুক্তি পাওয়া দুই বাংলার দর্শকদের জন্য এক বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্মাণ ও একঝাঁক তারকার মেলা ‘জ্যাজ সিটি’ পরিচালনা করেছেন খ্যাতনামা নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকার সৌমিক সেন। সিরিজে শুভর বিপরীতে প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন সৌরসেনী মিত্র। এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন শান্তনু ঘটক, অনিরুদ্ধ গুপ্ত, সায়নদীপ সেন, শ্রেয়া ভট্টাচার্য এবং বলিউড ও টালিউডের পরিচিত মুখ শতফ ফিগার ও অমিত সাহার মতো তারকারা। আন্তর্জাতিক মানের প্রোডাকশন ভ্যালু এবং শক্তিশালী কাস্টিংয়ের কারণে সিরিজটি শুরু থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
আরিফিন শুভর এই বলিউড অভিষেক কেবল তার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের মাইলফলক নয়, বরং এটি বাংলাদেশি অভিনেতাদের গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ‘জিমি রয়’ হয়ে তিনি যে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন, তা দীর্ঘকাল দর্শকদের মনে গেঁথে থাকবে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।