এরই পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলার মর্নেয়া ইউনিয়নের আলেমার বাজারে লাইসেন্সবিহীন একটি আইসক্রিম কারখানায় অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন।
সোমবার বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারখানার মালিককে ২০ হাজার ও একজন বিক্রেতাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জানা গেছে, আলেমার বাজারে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কোনো অনুমতি ছাড়াই ‘পিওর’ নামের একটি কারখানায় আইসক্রিম উৎপাদন করা হচ্ছিল। উৎপাদিত এসব আইসক্রিম হকারদের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বিক্রি করা হতো।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার বিকেলে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নে। ওই এলাকায় এক হকারের কাছ থেকে আইসক্রিম কিনে খাচ্ছিল কয়েকজন শিশু। এক শিশুর হাতে থাকা আইসক্রিমের ভেতর বড় আকারের কেঁচো দেখা যায়। পরে ঘটনাটি দ্রুত এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন। পরে প্রশাসনের কর্মকর্তারা আলেমার বাজারের ওই কারখানায় গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
অভিযানে কারখানাটিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদন, পণ্যের মোড়কে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ না থাকা এবং ক্ষতিকারক রং ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব অপরাধে কারখানা মালিককে ২০ হাজার টাকা এবং এক বিক্রেতাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে উৎপাদিত আইসক্রিম জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ‘কারখানাটির কোনো লাইসেন্স ছিল না। অভিযুক্তরা অপরাধ স্বীকার করেছেন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৩৭ ধারাসহ সংশ্লিষ্ট ধারায় জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।’
তিনি অভিভাবকদের প্রতি সতর্ক করে বলেন, ‘শিশুদের যেকোনো খাবার দেওয়ার আগে পণ্যের মান ও মেয়াদ ভালোভাবে যাচাই করা উচিত।’