খোলা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়তি দামে ডিজেল বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন কৃষকরা। এতে করে চাষাবাদের খরচ বেড়ে গেছে, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকেরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহের ছয়টি উপজেলায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশেষ করে সদর উপজেলার চন্ডীপুর বাজার মেঘনা কম্পানির ডিলার ফরহাদ ট্রেডার্স, বানিয়াবহু বাজারের জাহাঙ্গীর এন্টারপ্রাইজ, বাগুটিয়া বাজারের বছির উদ্দীন ট্রেডার্স, কালীগঞ্জের বাজারের বিশ্বাস ট্রেডার্স, শৈলকুপার হাটফাজিলপুর বাজারের আজমল ট্রেডার্স এ চক্রটি পরিচালনা করছে। পাম্পগুলোতে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও খুচরা পর্যায়ে তা পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। এই সুযোগে একটি চক্র গোপনে মজুদ করে উচ্চমূল্যে ডিজেল বিক্রি করছে। ফলে কৃষকদের বাধ্য হয়ে বেশি দামে ডিজেল কিনতে হচ্ছে।
সরকার নির্ধারিত প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকার পরিবর্তে বর্তমানে বিক্রি করা হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায়। এতে করে বোরো ধানের চাষসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদনে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। সূত্র জানায়, অসাধু তেল পাম্পের মালিকেরা ডিপো থেকে গাড়ি পাম্পে পৌঁছানোর আগে চক্রটির হাতে ডিজেল তুলে দিচ্ছে। তারা স্থানীয় বাজারে গিয়ে বেশি দামে এসব ডিজেল বিক্রি করছে।
এত করে প্রান্তিক কৃষকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সদর উপজেলার বেলেখাল গ্রামের কৃষক রইচ উদ্দীন বলেন, ‘এ বছর সার, বীজের দাম আগে থেকেই বেশি। এখন ডিজেলের দামও বাড়তি দিতে হচ্ছে। এভাবে চাষ করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।’
সদর উপজেলার চাপড়ী এলাকার কৃষক অঅব্দুল রহিম বলেন, ‘ফিলিং স্টেশনে ঘন্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ডিজেল পাচ্ছি না।
তাই বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে ডিজেল কিনতে হচ্ছে।’ জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘বাজার মনিটরিং জোরদার না করলে সিন্ডিকেট ভাঙা কঠিন হবে। পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে কৃষকরা ন্যায্য মূল্যে ডিজেল পেতে পারেন। সার্বিকভাবে ডিজেলের বাজারে অস্থিরতা কৃষকদের জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আসন্ন মৌসুমে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘ডিজেল সংকট নিয়ে কৃষকদের ভোগান্তির বিষয়টি আমরা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে দেখেছি। এ নিয়ে জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কোথাও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত দামে ডিজেল বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও পরিচালনা করা হয়েছে।’