রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরির জন্য অপেক্ষমাণ ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি বাস হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় তলিয়ে যায়। এই দুর্ঘটনায় চালকসহ ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ ছয় ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে বাসটি পানি থেকে তোলা সম্ভব হয়।
ব্রেক কেন কাজ করেনি? তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় চালক আরমান খান বাসটি নিয়ন্ত্রণ করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও মেকানিকদের মতে, টাটা কোম্পানির টিসি মডেলের এই বাসগুলোতে ইঞ্জিন বন্ধ থাকলে ব্রেকের হাওয়া বা এয়ার প্রেশার দ্রুত কমে যায়। বাসটি দীর্ঘ সময় বন্ধ অবস্থায় ছিল। চালক স্টার্ট দেওয়ার পরপরই পর্যাপ্ত সময় অপেক্ষা না করে বাসটি ফেরিতে তোলার জন্য গতি বাড়ান। কিন্তু এয়ার প্রেশার কম থাকায় ব্রেক চাপলেও তা কার্যকর হয়নি।
চালকের ভূমিকা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান বাসটিতে থাকা এক যাত্রী আবুল কালাম, যিনি দুর্ঘটনার ঠিক দু’মিনিট আগে বাস থেকে নেমেছিলেন, তিনি জানান, বাসটি চালক নিজেই চালাচ্ছিলেন। তার কোমরে ড্রাইভিং লাইসেন্স ঝোলানো ছিল। চালক আরমান খানের মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় মেকানিক বাবুল ইসলামের মতে, এয়ার ব্রেক সিস্টেমে প্রয়োজনীয় চাপ না থাকলে চালকের কিছুই করার থাকে না। চালক হয়তো মিটারের দিকে খেয়াল না করেই গাড়িটি চালিয়ে দিয়েছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল হক জানান, এটি একটি টেকনিক্যাল সিস্টেম ফেলিউর। আধুনিক এয়ার ব্রেকিং সিস্টেম কেন মাঝপথে কাজ করা বন্ধ করল এবং চালক কেন তা বুঝতে পারলেন না, তা নিয়ে আরও গভীর তদন্ত প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, গাড়ির ফিটনেস এবং চালকের কারিগরি জ্ঞান—উভয় ক্ষেত্রেই গাফিলতি থাকতে পারে।
উদ্ধার অভিযান ও বর্তমান পরিস্থিতি দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসটি উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশ বাসের ভেতরে আটকা পড়ে প্রাণ হারান। বর্তমানে ঘাট এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।