পেট্রোল পাচার ও মজুতদারির চিত্র
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমরা পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত পেট্রোল সরবরাহ করছি, কিন্তু সেই তেল চোরাচালান হয়ে যাচ্ছে। সিরাজগঞ্জে গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ তেল সরবরাহ করা হলেও পাম্পগুলো থেকে প্রায়ই ‘তেল নেই’ বলে জানানো হচ্ছে।”
মন্ত্রী আরও জানান, আগে একটি লরির তেল বিক্রি হতে দুই-তিন দিন সময় লাগত, এখন কয়েক ঘণ্টায় তা শেষ হয়ে যাচ্ছে। এর পেছনে মোটরসাইকেল বা গাড়িতে করে বারবার তেল নিয়ে জারে ভর্তি করে কালোবাজারি করার প্রবণতাকে দায়ী করেন তিনি।
অসাধু পাম্প মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা
জ্বালানি মন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, অনেক পাম্প মালিক প্রতিদিনের বরাদ্দকৃত তেলের একটি বড় অংশ সাধারণ মানুষকে না দিয়ে গোপনে কালোবাজারি করছে। তিনি বলেন, “আমার কাছে রিপোর্ট আছে, অনেক পাম্প তিন গাড়ি তেল পেলে মাত্র এক গাড়ি পাম্পে দেয়, বাকি দুই গাড়ি ব্ল্যাক মার্কেটিং করে। আমরা তেলের দাম সস্তা রেখেছি যাতে সাধারণ মানুষ সুবিধা পায়, কেউ যেন অবৈধ মুনাফা লুটতে না পারে।”
বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও সরকারি অবস্থান
বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীলতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ইরানসহ বিভিন্ন দেশের যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে বিদ্যুৎ ও তেলের দাম বাড়লেও বাংলাদেশে এখনো বিদ্যুতের দাম এক পয়সাও বাড়ানো হয়নি। তবে এই সুবিধা বজায় রাখতে সামাজিক সচেতনতা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি জানান, কালোবাজারি রুখতে প্রশাসন ও পুলিশ নিয়মিত অভিযান (রেইড) পরিচালনা করছে।
বকেয়া বিদ্যুৎ বিল ও উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বিগত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার ৭৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল রেখে গেছে। কামারখন্দের জামতৈল গ্রামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল কায়েস, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বদিউজ্জামান ফেরদৌস, সাধারণ সম্পাদক রেজাতে রাব্বি উথানসহ স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।