মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে পল্টনে খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের সরকারের বর্তমান ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সংবিধান সংস্কারে প্রতিবন্ধকতা ড. আহমদ আবদুল কাদের অভিযোগ করেন যে, নবগঠিত বিএনপি সরকারের সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ না করে মৌলিক সংস্কারের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন। তিনি বলেন, জনগণের গণআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য সংবিধানের সংস্কার অপরিহার্য, কিন্তু সরকারের আচরণে সেই সদিচ্ছার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।
সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের অভাব বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার মূল চেতনা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এবং বারবার সরকার পরিবর্তন হলেও দেশের মানুষ আজও তাদের মৌলিক অধিকারের জন্য লড়াই করছে। বাকশাল, স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদী শাসনের কবলে পড়ে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সার্বভৌমত্ব ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান খেলাফত মজলিস মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশ ১৯৪৭ সালে মানচিত্র, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রকৃত সার্বভৌমত্ব ফিরে পেয়েছে। এই সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশপ্রেমিক জনগণকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের মাধ্যমে যে পথ তৈরি করেছিল, বর্তমান সরকার তা বিলম্বিত করছে।
রাষ্ট্রীয় সংকট ও দ্রব্যমূল্য দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নৈতিকতা ও দেশপ্রেম সম্পন্ন নেতৃত্বের চরম সংকট চলছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই বলেও তিনি সমালোচনা করেন।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় দলের অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও মহানগরী নেতৃবৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তারা দ্রুততম সময়ে জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান।