দেশে উৎপাদনমুখী শিল্পকে উৎসাহিত করতে বাজেটে বিভিন্ন খাতে ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা দেয় সরকার। এরই অংশ হিসেবে মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট উৎপাদনে বিভিন্ন কোম্পানিকে বিশেষ সুবিধা দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড (জিটিএল) এই সুবিধার অপব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শর্ত ভঙ্গের চাঞ্চল্যকর তথ্য তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে ৫০ শতাংশ মোবাইল চার্জার ও ব্যাটারি দেশে উৎপাদনের শর্তে ভ্যাট অব্যাহতি পেয়ে আসছিল গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশন। কিন্তু এনবিআর ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে সেখানে ব্যাটারি ও চার্জার উৎপাদনের কোনো প্রমাণ পায়নি। প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন না করে সরাসরি এসব পণ্য আমদানি করে বাজারজাত করছে।
বিব্রতকর অবস্থায় এনবিআর এনবিআরের এসআরও (প্রজ্ঞাপন) অনুযায়ী, স্মার্টফোন উৎপাদনকারীদের ভ্যাট সুবিধা পেতে নিজস্ব ইউনিটে চার্জার ও ব্যাটারি তৈরির সক্ষমতা থাকা বাধ্যতামূলক। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শর্ত পরিপালন না করেই বছরের পর বছর ভ্যাট সুবিধা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অথচ প্রমাণ পাওয়ার পরও এনবিআর এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়নি, যা সংস্থাটির কর্মকর্তাদের জন্য বিব্রতকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও ব্র্যান্ড গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশন মূলত জিডিএল, জিটিই এবং বেনকো নামে নিজস্ব ব্র্যান্ডের ফোন উৎপাদন করে। পাশাপাশি লাভা ও ইনফিনিক্স ব্র্যান্ডের হ্যান্ডসেটও বাজারজাত করে তারা। ২০০৯ সালে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি ২০১৯ সাল থেকে বিভিন্ন মেয়াদে ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা ভোগ করে আসছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, শর্ত পূরণ করলে তাদের সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট দেওয়ার কথা নয়, যা তারা নিয়মিত ফাঁকি দিয়ে আসছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এ বিষয়ে গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহুরুল হক বিপ্লব দাবি করেছেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তার মতে, তদন্ত দল বার্ষিক হিসাবের বদলে মাসিক হিসাব ধরে প্রতিবেদন তৈরি করেছে। অন্যদিকে, এনবিআর চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটকে প্রতিষ্ঠানের কমপ্লায়েন্স যাচাই করতে চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।