ইউরোপের উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে অবৈধ পথে সমুদ্র পাড়ি দিতে গিয়ে আবারও প্রাণ ঝরল একঝাঁক বাংলাদেশির। গ্রিসের উপকূলে নৌকাডুবির এই ঘটনায় সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার ১২ জন তরুণের মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহতদের পরিচয় স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), শাহান মিয়া (২৫), রনারচর গ্রামের মুজিবুর রহমান (৩৮), বাসুরি গ্রামের মো. সুহানুর রহমান এবং মাটিয়াপুর গ্রামের তায়েফ মিয়া রয়েছেন। এছাড়া দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগরের আবু ফাহিম এবং জগন্নাথপুর উপজেলার সোহানুর রহমান, শায়েখ আহমেদ, মো. নাঈম, আমিনুর রহমান ও মোহাম্মদ আলীও এই করুণ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।
দালাল চক্রের প্রতারণা নিহতদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, দিরাই উপজেলার এক স্থানীয় মানবপাচারকারীর সঙ্গে জনপ্রতি প্রায় ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে তারা লিবিয়া হয়ে গ্রিসে যাওয়ার চুক্তি করেছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী তাদের বড় ও নিরাপদ নৌযানে করে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পাচারকারীরা শেষ মুহূর্তে তাদের ছোট ও জরাজীর্ণ একটি রাবারের নৌকায় তুলে দেয়। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে মাঝ সমুদ্রে নৌকাটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
উদ্ধার অভিযান ও বর্তমান পরিস্থিতি গ্রিসের কোস্টগার্ড জানায়, ডুবন্ত নৌকাটি থেকে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি। এছাড়া বাকিরা দক্ষিণ সুদান ও চাদের নাগরিক। জীবিতদের মধ্যে দুজনকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হেরাক্লিয়নের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পর অনেক মৃতদেহ সাগরের স্রোতে ভেসে গেছে।
পরিবারে শোকের মাতম নিহতদের পরিবারে এখন শুধু কান্নার রোল। উন্নত জীবনের আশায় ধার-দেনা করে দালালদের হাতে টাকা তুলে দিয়ে শেষ পর্যন্ত সন্তানদের লাশ হওয়ার সংবাদ কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তারা। শোকাতুর পরিবারগুলো এখন তাদের প্রিয়জনদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের দ্রুত ও কার্যকর সহযোগিতা কামনা করছে।