• দেশজুড়ে
  • ভোরের বিরামপুরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে স্লিপার কোচের ধাক্কায় প্রাণ গেল ২ জনের

ভোরের বিরামপুরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে স্লিপার কোচের ধাক্কায় প্রাণ গেল ২ জনের

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
ভোরের বিরামপুরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে স্লিপার কোচের ধাক্কায় প্রাণ গেল ২ জনের

ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কের চন্ডিপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা; চালকের সহকারী ও এক যাত্রীর মৃত্যু, আহত অন্তত ৬।

দিনাজপুরের বিরামপুরে ভোরের আলো ফোটার আগেই এক রক্তক্ষয়ী সড়ক দুর্ঘটনার সাক্ষী হলো উত্তরবঙ্গের মহাসড়ক। ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বালুবাহী ট্রাকের পেছনে দ্রুতগামী একটি ‘Sleeper Coach’-এর প্রচণ্ড ধাক্কায় ২ জন নিহত হয়েছেন। রোববার (২৯ মার্চ) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে বিরামপুর উপজেলার চন্ডিপুর এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় বাসের আরও অন্তত ৬ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।

ভোরের কুয়াশায় নিয়ন্ত্রণ হারাল কোচ পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ‘হেরিটেজ স্লিপার কোচ’ (Heritage Sleeper Coach) নামে একটি বিলাসবহুল যাত্রীবাহী বাস দিনাজপুর শহর থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। চন্ডিপুর এলাকায় পৌঁছালে চালক মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বালুবাহী ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধারণা করা হচ্ছে, ভোরের ঝাপসা আলোয় বাসের গতিবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে (Control) ব্যর্থ হয়েছিলেন চালক। ধাক্কার তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, বাসের সম্মুখভাগ দুমড়েমুচড়ে যায়।

হতাহতের পরিচয় ও উদ্ধার অভিযান এই দুর্ঘটনায় বাসের চালকের সহকারী (Helper) এবং এক যাত্রী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে—তিনি হলেন মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার খবির উদ্দিনের ছেলে মোশাররফ হোসেন বাবু। নিহত অন্য ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

দুর্ঘটনার পর পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (Upazila Health Complex) ভর্তি করান। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশি ভাষ্য ও আইনি প্রক্রিয়া বিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতাউর রহমান দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “সকালবেলা সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ‘Emergency Response’ হিসেবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই এবং দুজনের মরদেহ উদ্ধার করি। আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতদের পরিবারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

মহাসড়কের পাশে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ট্রাক পার্কিং এবং দূরপাল্লার বাসের উচ্চগতিকে এই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাকটি সরিয়ে নিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।