• খেলা
  • ‘খেলাকে জিম্মি করবেন না’: ডিপিএল নিয়ে ক্লাবগুলোর অনড় অবস্থানে বিসিবি পরিচালকের আর্তি

‘খেলাকে জিম্মি করবেন না’: ডিপিএল নিয়ে ক্লাবগুলোর অনড় অবস্থানে বিসিবি পরিচালকের আর্তি

খেলা ১ মিনিট পড়া
‘খেলাকে জিম্মি করবেন না’: ডিপিএল নিয়ে ক্লাবগুলোর অনড় অবস্থানে বিসিবি পরিচালকের আর্তি

বিবাদ ভুলে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ চালুর আহ্বান ইফতেখার রহমান মিঠুর; টুর্নামেন্ট না হলে আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বেন শত শত ঘরোয়া ক্রিকেটার।

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (DPL) নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। বিসিবি ও ক্লাব কর্মকর্তাদের মধ্যকার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক টানাপড়েনে ঝুলে আছে এবারের মৌসুমের ভাগ্য। এমন পরিস্থিতিতে ক্রিকেটকে কোনো ধরনের বিবাদের হাতিয়ার বা ‘জিম্মি’ না করার জন্য ক্লাবগুলোর প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (BCB) পরিচালক ও আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার রহমান মিঠু।

অচলাবস্থায় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (DPL) সবশেষ বিসিবি নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে ঢাকার অধিকাংশ ক্লাব বর্তমানে বর্তমান বোর্ডের অধীনে কোনো লিগে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। ক্লাব কর্মকর্তাদের এই বয়কটের কারণে শুধু প্রিমিয়ার লিগই নয়, বরং প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগও মাঠে গড়ানো নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় প্রশ্নচিহ্ন। যদিও বিসিবি কর্তারা বিকল্প কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন করে ক্রিকেটীয় কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করছেন, তবে ডিপিএলের মতো ঐতিহ্যবাহী ও বড় বাজেটের লিগের অভাব পূরণ করা প্রায় অসম্ভব।

ক্রিকেটারদের ‘রুটি-রুজি’ যখন সংকটে জাতীয় দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের জন্য আয়ের প্রধান উৎস হলো ডিপিএল এবং বিপিএল (BPL)। তবে বিপিএলে সুযোগ পান কেবল হাতেগোনা কয়েকজন তারকা। সিংহভাগ ঘরোয়া ক্রিকেটারের সারা বছরের আর্থিক সংস্থান বা ‘Livelihood’ নির্ভর করে এই প্রিমিয়ার লিগের ওপর। লিগ মাঠে না গড়ালে এই বিপুল সংখ্যক ক্রিকেটারের পেশাদার জীবন ও ব্যক্তিগত বাজারমূল্য (Market Value) চরম হুমকির মুখে পড়বে।

এই মানবিক ও পেশাদারি সংকটের কথা তুলে ধরে বিসিবি পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু বলেন, “আমি একজন সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে বলছি, যে যাই হোক, যেই বিবাদই থাকুক, খেলাকে আমরা জিম্মি করতে পারি না। খেলাটা খেলার মতোই হওয়া উচিত। কোনো বিবাদ থাকলে তা আলোচনার টেবিলে সমাধান করা হোক, কিন্তু তার প্রভাব যেন মাঠে না পড়ে। এটি আমার একদম ব্যক্তিগত ও পেশাদার মতামত।”

‘বিবাদ ভুলে খেলার মাঠ উন্মুক্ত রাখুন’ ক্লাব কর্মকর্তাদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে মিঠু আরও বলেন, “আমার অনুরোধ থাকবে ক্লাবগুলোর কাছে—দয়া করে ক্রিকেটারদের কথা ভাবুন। এটি তাদের আয়ের প্রধান মাধ্যম। আমরা শুধু বিপিএলের গুটিকয়েক ক্রিকেটারের কথা বলছি না; শত শত খেলোয়াড় আছে যারা শুধু লিগ খেলেই জীবন চালায়। তাই প্রিমিয়ার লিগটি যথাসময়ে আয়োজন করা এখন সময়ের দাবি।”

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে বোর্ড এবং ক্লাবগুলোর মধ্যকার এই ‘Institutional Conflict’ বা প্রাতিষ্ঠানিক বিবাদ দ্রুত মেটানো প্রয়োজন। অন্যথায় দেশের পাইপলাইনের ক্রিকেটাররা খেলা ছেড়ে দেওয়ার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, যা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ‘Job Creation’ এবং মেধা অন্বেষণে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। এখন দেখার বিষয়, বিসিবি পরিচালকের এই আর্তি ক্লাব কর্মকর্তাদের মন গলাতে পারে কি না, নাকি প্রশাসনিক জেদাজেদিতে বলি হবেন মাঠের ক্রিকেটাররা।

Tags: sports news bangladesh cricket bcb dhaka league domestic league cricket management dpl cricket crisis player livelihood club dispute