বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে অনেক দেশের অর্থনীতি। এই সংকট থেকে উত্তরণে এবং অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে দেশগুলো এখন উদ্ভাবনী ও কঠোর পদক্ষেপের দিকে ঝুঁকছে।
আফ্রিকায় রপ্তানি ও সাশ্রয়ী নীতি কেনিয়ায় জ্বালানি সংকটের কারণে পচনশীল পণ্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সরকার বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ফুল, সবজি ও অ্যাভোকাডোর মতো দ্রুত পচনশীল পণ্য যাতে বন্দর দিয়ে দ্রুত খালাস হয়, সেজন্য বন্দর ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। অন্যদিকে, ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ জ্বালানি সাশ্রয়ে জরুরি সেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
নাইজেরিয়ায় যানবাহনের আমূল রূপান্তর জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় নাইজেরিয়া তাদের পরিবহন খাতে বড় পরিবর্তন আনছে। তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও নিজস্ব শোধনাগার সচল না থাকায় দেশটি এখন পেট্রোলচালিত গাড়িগুলোকে সিএনজি ও বিদ্যুৎচালিত (ইভি) যানবাহনে রূপান্তরের বিশাল প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এ লক্ষ্যে নাগরিকদের জন্য সহজ ঋণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
ভিয়েতনামের কর ছাড় ও নতুন চুক্তি ভিয়েতনাম সরকার তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাময়িকভাবে পরিবেশ কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এছাড়া আমদানিনির্ভরতা কমাতে কাতার, কুয়েত ও রাশিয়ার সঙ্গে নতুন জ্বালানি চুক্তি করেছে দেশটি। সরকারি কর্মীদের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।
মিয়ানমারে কঠোর কিউআর কোড রেশনিং মিয়ানমারে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বারকোড ও কিউআর কোডের মাধ্যমে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ইঞ্জিনের ক্ষমতা অনুযায়ী যানবাহনের জন্য সাপ্তাহিক জ্বালানির সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। মোটরসাইকেলের জন্য সপ্তাহে ৮ লিটার এবং ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য আকারভেদে ৩৫ থেকে ৪৫ লিটার তেল বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
থাইল্যান্ডের ব্যতিক্রমী সাশ্রয়ী উদ্যোগ থাইল্যান্ডে ডিজেল সংকট প্রকট হওয়ায় সরকারি দফতরে এসি ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে না রাখা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর স্থগিত করার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকি অফিসে স্যুট-টাই বা আনুষ্ঠানিক পোশাকের পরিবর্তে হালকা হাফহাতা পোশাক পরার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে যাতে এসির ওপর নির্ভরতা কমে।
বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ সরকারও জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে দৈনিক প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা এই খাতে ব্যয় করছে সরকার।