দেশের বাজারে মহামূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম আবারও আকাশচুম্বী হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সবশেষ দফায় ভরিতে ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়ার পর আজ সোমবার (৩০ মার্চ) থেকে নতুন এই রেকর্ড মূল্যে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (Pure Gold) সরবরাহ সংকটের কারণে এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
একই দিনে দুই দফা দাম পরিবর্তন: অস্থির স্বর্ণের বাজার
গত শনিবার (২৮ মার্চ) দেশের স্বর্ণের বাজারে এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। মাত্র ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দুইবার দাম সমন্বয় করে বাজুস। সকালে এক দফা দাম বাড়ানোর পর বিকেলেই আবার দ্বিতীয় দফায় বড় অংকের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা আসে। বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে পিওর গোল্ড বা তেজাবি স্বর্ণের Market Value অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন এই দর নির্ধারণ করা হয়েছে।
এক নজরে আজকের স্বর্ণের বাজারদর (প্রতি ভরি):
বাজুসের নতুন চার্ট অনুযায়ী, আজ সোমবার থেকে বাজারে স্বর্ণের দাম নিচের হারে কার্যকর হচ্ছে:
১. ২২ ক্যারেট: ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা। ২. ২১ ক্যারেট: ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা। ৩. ১৮ ক্যারেট: ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা। ৪. সনাতন পদ্ধতি: ১ লাখ ৬০ হাজার ৮৪৭ টাকা।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৮ মার্চ সকালেই ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৭ হাজার ১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তা ২ লাখ ৪১ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যায়।
বছরের ব্যবধানে রেকর্ডসংখ্যক সমন্বয়
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৪৯ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২১ বার কমানো হয়েছে। এই ঘনঘন দামের পরিবর্তন বিনিয়োগকারীদের জন্য এক বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণকে ‘Safe Haven’ বা নিরাপদ বিনিয়োগ মনে করলেও উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ ক্রেতারা বিপাকে পড়েছেন।
অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম
স্বর্ণের বাজারে যখন আগুন, তখন সাধারণ ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর দিচ্ছে রুপার বাজার। দেশের বাজারে বর্তমানে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৩২৪ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম ২৯ বার সমন্বয় করা হলেও তা স্বর্ণের মতো লাগামহীন হয়ে ওঠেনি।
বাজার বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস
বাজুস সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার পাশাপাশি ডলারের বিনিময় হার এবং আমদানি জটিলতাও এই মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে কাজ করছে। জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা না কমলে স্বর্ণের দাম কমার সম্ভাবনা খুবই কম। বরং আগামী দিনগুলোতে এটি আরও নতুন রেকর্ড স্পর্শ করতে পারে।
স্বর্ণের এই আকাশচুম্বী দামের কারণে সাধারণ মানুষের বিয়ে-সাদি বা পারিবারিক অলংকার কেনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা এখন বড় বিনিয়োগের পরিবর্তে ছোট ছোট অলংকারের দিকে ঝুঁকছেন।