বিজয় ভার্মা মানেই পর্দায় এক অন্যরকম আভিজাত্য আর নিগূঢ় রহস্যের মিশেল। ‘দাহাড়’, ‘মির্জাপুর’ কিংবা ‘ডার্লিংস’-এর সাফল্যের পর এবার তিনি ফিরছেন ষাটের দশকের সেই ক্যানভাসে, যেখানে বোম্বে ছিল স্বপ্ন আর অন্ধকার অপরাধ জগতের এক মোহনা। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আমাজন প্রাইম ভিডিও (Prime Video) নিয়ে আসছে তাদের নতুন অরিজিনাল সিরিজ ‘মটকা কিং’ (Matka King)। আগামী ১৭ এপ্রিল সিরিজটি বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেতে যাচ্ছে।
ষাটের দশকের বোম্বে আর এক ব্যবসায়ীর উচ্চাভিলাষ
সিরিজটির গল্প আবর্তিত হয়েছে ১৯৬০-এর দশকের উত্তাল বোম্বের পটভূমিতে। এর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্রিজ ভাট্টি (বিজয় বর্মা), যিনি পেশায় একজন তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমান এবং উদ্যোগী তুলা ব্যবসায়ী (Cotton Trader)। তবে তাঁর লক্ষ্য কেবল সাধারণ ব্যবসায় সীমাবদ্ধ ছিল না; সমাজে সম্মান, বৈধতা এবং নিরঙ্কুশ ক্ষমতা পাওয়ার নেশায় তিনি এক ঝুঁকিপূর্ণ পথে পা বাড়ান। বোম্বের জনাকীর্ণ অলিগলি আর দ্রুত পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক-সামাজিক পরিস্থিতির মধ্যে ব্রিজ ভাট্টির একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ক্রমে এক বিশাল সাম্রাজ্যে রূপ নেয়। ‘মটকা’ নামক ভাগ্য পরীক্ষার এই খেলায় তিনি হয়ে ওঠেন অপরাজেয় এক সম্রাট।
প্রতিকূলতা জয়ের গল্প ও ক্ষমতার দ্বৈরথ
প্রাইম ভিডিও ইন্ডিয়ার অরিজিনালস প্রধান নিখিল মাধক এই সিরিজটি নিয়ে এক বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, ‘মটকা কিং’ কেবল এক ব্যক্তির অর্থ উপার্জনের গল্প নয়, বরং এটি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে মানুষের সফল হওয়ার এক চমকপ্রদ আখ্যান। তিনি বলেন, “ব্রিজ ভাট্টির মটকা কিং হয়ে ওঠার কাহিনী যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি এতে একধরণের সতর্কবার্তাও (Cautionary Tale) রয়েছে। রয় কাপুর ফিল্মস এবং নাগরাজ মঞ্জুলের সাথে মিলে এই সাহসী গল্পটি দর্শকদের সামনে আনতে পেরে আমরা আনন্দিত।”
নেপথ্যের কারিগর ও তারকাবহুল কাস্ট
সিরিজটির নির্মাণ শৈলী নিয়ে আশাবাদী এর প্রযোজক সিদ্ধার্থ রায় কাপুর। তিনি মনে করেন, ষাটের দশকের সেই সময়কাল এবং একজন মানুষের নিজের অস্তিত্ব প্রমাণের লড়াই দর্শকদের দারুণভাবে প্রভাবিত করবে। ‘সৈরাট’ (Sairat) খ্যাত দুর্ধর্ষ নির্মাতা নাগরাজ মঞ্জুলের নিপুণ পরিচালনায় সিরিজটি এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে তাঁর বিশ্বাস।
বিজয় ভার্মার পাশাপাশি এই সিরিজে অভিনয় করেছেন একঝাঁক শক্তিমান শিল্পী। ‘ব্যাড ম্যান’ খ্যাত গুলশান গ্রোভার, কৃতিকা কামরা, সাই তামহঙ্কর, সিদ্ধার্থ যাদব এবং ভূপেন্দ্র জাদাওয়াতের মতো অভিনেতারা সিরিজটির প্রতিটি ফ্রেমকে জীবন্ত করে তুলেছেন।
ক্ষমতা, পরিচয় এবং বিশ্বাসঘাতকতার এই রোমাঞ্চকর যাত্রা ওটিটি পাড়ায় একটি নতুন ‘বেঞ্চমার্ক’ তৈরি করবে বলেই ধারণা করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা। এখন কেবল ১৭ এপ্রিলের অপেক্ষা, যখন বড় পর্দায় উন্মোচিত হবে ব্রিজ ভাট্টির রহস্যময় জগত।