• জাতীয়
  • ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় জ্বালানি সংকটের শঙ্কা: ‘হোম অফিস’ ও ‘অনলাইন ক্লাসে’ ফেরার পরিকল্পনা সরকারের

ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় জ্বালানি সংকটের শঙ্কা: ‘হোম অফিস’ ও ‘অনলাইন ক্লাসে’ ফেরার পরিকল্পনা সরকারের

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় জ্বালানি সংকটের শঙ্কা: ‘হোম অফিস’ ও ‘অনলাইন ক্লাসে’ ফেরার পরিকল্পনা সরকারের

ডলার সংকট ও আমদানিতে বাড়তি ব্যয় কমাতে একগুচ্ছ বড় সাশ্রয়ী পদক্ষেপের পথে নীতিনির্ধারকরা; মন্ত্রিসভার আগামী বৈঠকে চূড়ান্ত হতে পারে কৃচ্ছ্রসাধন কর্মসূচি

সংকটের মেঘ ও সাশ্রয়ী অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ

বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার যে কালো মেঘ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে জমাট বেঁধেছে, তার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ওপর। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম, আমদানিতে বিপুল ব্যয়বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ ডলার সংকটের এক ত্রিমুখী চাপ সামলাতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে একগুচ্ছ ‘কৃচ্ছ্রসাধন কর্মসূচি’ বা সাশ্রয়ী পদক্ষেপ গ্রহণের চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দাপ্তরিক কর্মঘণ্টা পুনর্নির্ধারণ ও যাতায়াত কমিয়ে জ্বালানি সাশ্রয় করা। এর অংশ হিসেবে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য পুনরায় ‘Work From Home’ বা ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ তৈরি, সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো এবং অফিসের সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব টেবিলে রয়েছে।

অনলাইন ক্লাস ও হোম অফিসের নতুন প্রস্তাবনা

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সূত্রমতে, জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আংশিকভাবে ‘Online Class’ চালুর বিষয়টিও এখন সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। মূলত তিনটি স্তরে একটি পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে:

১. অফিস সময়সূচি: দাপ্তরিক কাজ দ্রুত শুরু করা এবং কাজের মোট সময় কমিয়ে আনা। ২. কর্মসংস্থান ও যাতায়াত: কর্মকর্তাদের সপ্তাহে অন্তত দুই দিন ঘরে বসে কাজ (Work From Home) করার অনুমতি দেওয়া কিংবা সাপ্তাহিক ছুটিতে বাড়তি একদিন যোগ করা। ৩. শিক্ষা খাতের ভূমিকা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সপ্তাহে অন্তত অর্ধেক দিন ভার্চ্যুয়াল বা অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচে লাগাম টানা।

আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অন্তত আটটি সম্ভাব্য পদক্ষেপের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। আপাতত তিন মাসের একটি স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে এগোলেও পরিস্থিতি আরও জটিল হলে সরকার মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী কৌশল গ্রহণ করতে পারে।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপ

বাংলাদেশের মতো একটি জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এই সংকট অত্যন্ত স্পর্শকাতর। উদ্বেগের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হলো ‘হরমুজ প্রণালি’, যা বিশ্বজুড়ে তেল ও LNG পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট। এই পথে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।

ইতিমধ্যেই ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েল এবং আন্তর্জাতিক ‘Spot Market’ (খোলা বাজার) থেকে চড়া দামে এলএনজি কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণেই বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমাতে অপ্রয়োজনীয় সরকারি ঋণ পরিহার ও কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাবও সক্রিয় রয়েছে।

ডিমান্ড সাইড ম্যানেজমেন্ট (DSM) ও নজরদারি

সরকার এই মুহূর্তে তেলের দাম বাড়িয়ে জনগণের ওপর বাড়তি বোঝা চাপাতে চাচ্ছে না। বরং ‘Demand Side Management’ (DSM)-এর ওপর জোর দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরনে পরিবর্তন আনতে চাইছে। ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি অফিসগুলোতে দিনের বেলা প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করা, এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহারের মতো কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এই নির্দেশাবলী সঠিকবাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা তদারকি করতে গঠন করা হচ্ছে বিশেষ ‘ভিজিল্যান্স টিম’। কৃচ্ছ্রসাধনের এই লড়াইয়ে জনগণের সরাসরি সম্পৃক্ততা ও সচেতনতা এখন সময়ের দাবি।

Tags: energy crisis middle east conflict economy news fuel price spot market lng import bangladesh government dollar crisis work from home online classes electricity savings austerity measure