সিলটে ঐতিহাসিক সূচনার পথে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’
দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে লুকিয়ে থাকা ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতে এক বিশাল কর্মযজ্ঞের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে তিনি জানান, আগামী ৩০ এপ্রিল সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ (Notun Kuri Sports) কার্যক্রমের সূচনা করা হবে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৬ সালে শিশু-কিশোরদের মেধা বিকাশে যে কিংবদন্তি ‘নতুন কুঁড়ি’ অনুষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়েছিল, এবার তারই একটি আধুনিক ও বিশেষায়িত সংস্করণ হিসেবে ক্রীড়া ক্ষেত্রকে বেছে নিয়েছে নতুন সরকার।
ক্রীড়া কার্ড ও আন্তর্জাতিক পদকজয়ীদের সম্মাননা
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় (Youth and Sports Ministry) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ক্রীড়াবিদদের কল্যাণে একগুচ্ছ নতুন সুযোগ-সুবিধার উদ্বোধন করেন। তিনি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনা খেলোয়াড়দের হাতে ‘ক্রীড়া কার্ড’ (Sports Card) তুলে দেন। এই কার্ডের মাধ্যমে খেলোয়াড়রা বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা ও অগ্রাধিকার পাবেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের বিশেষ পুরস্কার ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় খেলোয়াড়দের আশ্বস্ত করে বলেন, আপনাদের ঘাম ও পরিশ্রমের মর্যাদা দিতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
শখের গণ্ডি ছাড়িয়ে ক্রীড়া এখন একটি স্বীকৃত ‘পেশা’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর ভাষণে আধুনিক বিশ্বের প্রেক্ষাপটে ক্রীড়াঙ্গনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বর্তমান বিশ্বে ক্রীড়া আর শুধু শখ বা বিনোদনের (Leisure) কোনো বিষয় নয়; এটি এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি অত্যন্ত লাভজনক ও সম্মানজনক পেশা। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো আমাদের তরুণরাও যেন খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে পারে, আমরা সেই পথই প্রশস্ত করছি।”
তিনি আরও যোগ করেন, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে যে নির্বাচনী ইশতেহার (Election Manifesto) পেশ করা হয়েছিল, সেখানে ক্রীড়াকে একটি পূর্ণাঙ্গ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালুর মাধ্যমে মূলত সেই Policy Implementation বা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।
সিলেট থেকে দেশব্যাপী ‘ট্যালেন্ট হান্ট’
৩০ এপ্রিল সিলেটে উদ্বোধনের পর পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এই ‘ট্যালেন্ট হান্ট’ (Talent Hunt) বা প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া হবে। বিটিভির সেই ঐতিহ্যবাহী ‘নতুন কুঁড়ি’ যেমন শিল্পী তৈরি করেছিল, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ তেমনই বিশ্বমানের অ্যাথলেট তৈরি করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে কেবল ক্রিকেট বা ফুটবল নয়, বরং অ্যাথলেটিকস, সাঁতার, দাবা এবং অন্যান্য বৈচিত্র্যপূর্ণ খেলাধুলায় পারদর্শী কিশোর-কিশোরীদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তোলা হবে।
অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জাতীয় পর্যায়ের প্রথিতযশা খেলোয়াড় এবং বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন প্রাণের জোয়ার সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।