ইটভাটার মাটি চাপায় প্রাণ হারিয়েছেন আবুল খায়ের। স্বপ্নের প্রবাস দু:স্বপ্ন হয়ে এলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া গ্রামের আব্দুল জাব্বারের ছেলে আবুল খায়ের জন্য। প্রবাস কেড়ে নিলো তার প্রাণ। পরিবারের জন্য স্বপ্ন নিয়ে নয়, লাশ হয়ে ফিরবেন আবুল খায়ের।
আগামী শনি কিংবা রবিবার তার লাশ দেশে আসার কথা রয়েছে।
ভাইদের সঙ্গে কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন আবুল খায়ের। সংসারে স্বচ্ছলতার জন্য পৈতৃকভাবে পাওয়া দেড় শতক জমি বিক্রি ও ধার করা টাকায় ২০২৪ সালের ২৬ মার্চ কিরগিজস্থানে পাড়ি জমান আবুল খায়ের। প্রবাসে পাড়ি জমানোর সময় আবুল খায়েরের স্ত্রী সন্তানসম্ভাবা।
এখন তার সন্তানের বয়স ১৬ মাস। ছেলেকে দেখার জন্য ব্যকুল আবুল খায়ের। ঘটনার দিনও মোবাইল ফোনে ভিডিও কলে ছেলেকে দেখেন। শিগগিরই এসে সন্তানকে এসে কোলে নেওয়ার কথাও বলেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ আবুল খায়েরের স্ত্রী হামিদা আক্তার।
ছেলে আরহামকে কোলে নিয়ে ফেলফেল করে তাকিয়ে ছিলেন। নিজের ও ছেলের অনিশ্চিত ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তার ছাপ চোখেমুখে। শিশু আরহাম জানে না তার বাবা বেঁচে নেই। বাবার মৃত্যুর খবর তাকে ছুঁয়ে যায়নি। মাত্র ১৬ মাস বয়সে বাবার না থাকাটা তার বুঝতে পারার কথাও না। আবুল খায়ের স্ত্রী হামিদা আক্তার বলেন, ঘটনার দিন সকালে ফোন করেছিল আরহামের বাবা। বলেছিলো কাজে যাবে না। ছেলেকে ভিডিও কলে দেখেছে। কথা বলেছে। পরে আবার ফোন দেয়। বিকেলে আবার ফোন করলে আরেকজন ধরে। তখন আমার ভাসুরের সাথে কথা বলে মৃত্যুর খবরটি জানায় ওই ব্যক্তি।
খায়েরের পরিবারের সদস্যরা জানান, কিরগিজস্তান যাওয়ার আগে কিছুদিন সৌদি আরবে ছিলেন খায়ের। কিন্তু সেখানে সুবিধা করতে না পেরে দেশে ফেরত চলে আসেন। এরপর বছর দেড়েক বাড়িতে থাকার পর ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেখে ঢাকার বনানী এলাকার একটি এজেন্সির মাধ্যমে কিরগিজস্তান যান খায়ের। এজেন্সি থেকে বলা হয়েছিল সিরামিক কারখানায় কাজ দেওয়া হবে। কিন্তু সেখানে গিয়ে কাক্সিখত কাজ পাননি। ফলে পরিবারের জন্য সুখের আশায় বাড়ি ছাড়লেও হতাশা ছিল তার মনে। বর্তমানে বড় ভাই রফিক মিয়ার জায়গায় ছোট্ট একটি ঘর তুলে বসবাস করছে খায়েরের স্ত্রী-সন্তান।
খায়েরের বড় ভাই রফিক মিয়া বলেন, ‘বিদেশ যাওয়ার জন্য শেষ সম্বল বাড়ির জায়গাটুকুও বিক্রি করে দিয়ে গেছে সে। পর ভালো কোনো কাজ পায়নি। যখন যা পেয়েছে, সেই কাজ করেছে। তার স্ত্রী-সন্তানকে থাকার জন্য আমি আমার জায়গায় ঘর করতে দিয়েছি।’
তিনি জানান, খায়েরের লাশ আনার জন্য কিরগিজস্তানে অবস্থানরত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একজনের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। সে বলছে যে ইটভাটায় কাজ করত তারা নিজেরা খরচ দিয়ে লাশ দেশে পাঠাবে। আগামী শনি অতবা রবিবার তারা লাশ পাঠাতে পারে।