চট্টগ্রামে হাম (Measles) সদৃশ উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৬ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫ জনে। এ পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের অধিকাংশই শিশু ও কিশোর, যাদের বয়স ৬ মাস থেকে ১২ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে উচ্চ জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি এবং দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে—যা হাম রোগের প্রধান লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত। ইতোমধ্যে কয়েকজন রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে, যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে উপসর্গ বিবেচনায় চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ নগরীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেড়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হঠাৎ করে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রোগী সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত বেডের ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা সেবার পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু এখনো হাম-রুবেলা টিকা নেয়নি বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে তারা উল্লেখ করেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা শৈথিল্য, অভিভাবকদের উদাসীনতা এবং কিছু এলাকায় সচেতনতার অভাবের কারণে এ ধরনের সংক্রমণ বাড়তে পারে। পাশাপাশি মৌসুমি পরিবর্তন ও জনসমাগমও সংক্রমণ বৃদ্ধির একটি কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আক্রান্ত এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তারা জানান।
এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ জনগণের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হাম-রুবেলা টিকা নিশ্চিত করা, অসুস্থ শিশুকে জনসমাগম থেকে দূরে রাখা এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, দ্রুত শনাক্তকরণ ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত না করা গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তাই কোনো শিশুর মধ্যে হাম সদৃশ উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়েছে।