• দেশজুড়ে
  • খাসজমি থেকে মাটি বিক্রির মহোৎসব

খাসজমি থেকে মাটি বিক্রির মহোৎসব

জমিটি ভূমিহীন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দ

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
খাসজমি থেকে মাটি বিক্রির মহোৎসব

রামগতি

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে খাসজমি থেকে মাটি বিক্রির মহোৎসব চলছে। প্রশাসন, পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের ‘ম্যানেজ’ করে এলাকার প্রভাবশালীরা এমন ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টুমচর গ্রামের আজাদ মার্কেটসংলগ্ন আলমগীর সমাজ নামের এলাকায় গিয়ে জানা যায়, সেখানে ভুলুয়া নদীর পাশে প্রায় ২২৫ শতাংশ জমি ভূমিহীন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অধিগ্রহণ করে সরকার।

স্থানীয়রা জানান, ওই জমিতে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে সয়াবিন, বাদাম ও ধান চাষ করে আসছে স্থানীয় ভূমিহীনরা।

তাদের অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে স্থানীয় চরগাজী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আজাদ উদ্দীন, উপজেলা ছাত্রদল নেতা মো. ফরান, বিএনপিকর্মী হেলাল ব্যাপারি, আলাউদ্দীন ও আলমগীর মেস্তরিসহ একটি প্রভাবশালী চক্র দখল করে মাটি বিক্রি করছে। উর্বর এই কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করে জমিকে পুকুর বানিয়ে ফেলা হচ্ছে। এতে একদিকে ভুলুয়া নদীতে ভাঙন দেখা দিচ্ছে, অন্যদিকে বিশাল চরে বড় বড় পুকুর তৈরি করায় বর্ষা মৌসুমে ওই এলাকার অন্তত ৫০টি বসতবাড়ি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে আতঙ্ক বিরাজ করছে স্থানীয়দের মধ্যে।

এলাকাবাসী জানায়, স্থানীয় প্রভাবশালীদের একাধিক চক্র গত তিন মাস ধরে প্রথমে দিনের বেলায় মাটি বিক্রি শুরু করে। এতে বাধার মুখে পড়ে উপজেলা প্রশাসনের। পরে তারা রাতে অন্তত ২০টি খননযন্ত্র (ভেকু মেশিন) দিয়ে মাটি কাটে। এরপর সেই মাটি অন্তত ২৫টি ট্রলিতে করে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করছে।

প্রভাবশালী চক্রটির বিরুদ্ধে স্থানীয় কোনো কৃষক মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না। এলাকাবাসী আরো জানায়, আলমগীর সমাজের মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. আলমগীর মাটি কাটায় বাধা দিলে চক্রটি তাকে ২০ হাজার টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ রাখে। বিষয়টি আলমগীর নিজেই এ প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করে।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে কথা হয় অভিযুক্ত হেলাল ব্যাপারীর সঙ্গে। তার দাবি, তিনি নিজের জমি থেকে মাটি কাটছেন।

ওই জমি খাস কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষের জমি নদীতে ভেঙে গিয়ে পরে চর জাগে, তাই খাস হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘তিন মাস ধরে আমরা মাটি কাটছি। হঠাৎ আপনাদের কে খবর দিল? আমরা তো প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের ম্যানেজ করেই এখানে মাটি কাটছি।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্তত ১০ জন কৃষক বলেন, এ এলাকায় প্রচুর সয়াবিন, বাদাম ও ধান চাষ হয়। সরকারের খাসজমি দখল করে মাটি কেটে বিক্রি করছে একটি চক্র। বর্তমানে ওইসব জমিতে এখন বড় বড় মাছের ঘের করা হয়েছে। সরকার ওইসব জমি অসহায় গরিব মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অধিগ্রহণ করে রেখেছে। কিন্তু প্রভাবশালী চক্র সেই জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছে।

চরগাজী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন বলেন, আমরা পরিষদের পক্ষ থেকে কয়েকবার বাধা দিয়েছি। উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও ভূমি অফিসকে জানিয়েও খাসজমি রক্ষা করতে পারিনি। তারা কারো কোনো কথা শুনছে না। তিনি বলেন, রাতের বেলায় মাটি কাটার মহোৎসব চলে ওই এলাকায়। সোমবার (৩০ মার্চ) রাতেও ২০টি ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে ২৫টি ট্রলিতে করে অন্যত্র পাঠানো হয়েছে।

চরগাজী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা (তহশিলদার) মোবারক হোসেন বলেন, তিনি সরেজমিনে গিয়ে বাধা দিলেও চক্রটি তা মানছে না। তারা মাটি কেটে জমিকে পুকুর বানিয়ে ফেলছে।

রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, ওই স্থানে পুলিশ পাঠিয়ে একবার একজনকে আটক করি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানোর পরামর্শ দেন ওসি।

রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসন ওই এলাকায় মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালাবে। অবৈধভাবে মাটি কাটা চক্রের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tags: খাসজমি মাটি বিক্রি মহোৎসব