• দেশজুড়ে
  • ফেরির যন্ত্রণার অবসান, চন্দ্রঘোনা- ''রাইখালীতে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম ক্যাবল-স্টেইড সেতু, ' বদলে যাবে তিন পার্বত্য চট্টগ্রামের যোগাযোগ চিত্র,

ফেরির যন্ত্রণার অবসান, চন্দ্রঘোনা- ''রাইখালীতে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম ক্যাবল-স্টেইড সেতু, ' বদলে যাবে তিন পার্বত্য চট্টগ্রামের যোগাযোগ চিত্র,

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
ফেরির যন্ত্রণার অবসান, চন্দ্রঘোনা- ''রাইখালীতে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম ক্যাবল-স্টেইড সেতু, ' বদলে যাবে তিন পার্বত্য চট্টগ্রামের যোগাযোগ চিত্র,

অসীম রায় (অশ্বিনী) বান্দরবান

কর্ণফুলী নদীর ওপর দিয়ে উঁচুতে টানা তারের জালে ঝুলে থাকবে একটি সেতু — দেখতে অনেকটা বীণার তারের মতো। এই অসাধারণ স্থাপত্যই হলো ক্যাবল-স্টেইড সেতু, যেখানে উঁচু পাইলন বা স্তম্ভ থেকে ইস্পাতের তার টেনে সেতুর ডেক বা মেঝেকে শূন্যে ধরে রাখা হয়। বিশ্বের বহু দেশে এই প্রযুক্তির সেতু পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। এবার সেই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সেতু তৈরি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে — প্রথমবারের মতো।

যেখানে এখন ফেরির ভিড়, সেখানেই আকাশ ছুঁয়ে উঠবে তারে বাঁধা স্বপ্নের সেতু। কর্ণফুলী নদীর ওপর দিয়ে উঁচুতে টানা তারের জালে ঝুলে থাকবে একটি সেতু — দেখতে অনেকটা বীণার তারের মতো। এই অসাধারণ স্থাপত্যই হলো ক্যাবল-স্টেইড সেতু, যেখানে উঁচু পাইলন বা স্তম্ভ থেকে ইস্পাতের তার টেনে সেতুর ডেক বা মেঝেকে শূন্যে ধরে রাখা হয়। বিশ্বের বহু দেশে এই প্রযুক্তির সেতু পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। এবার সেই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সেতু তৈরি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে — প্রথমবারের মতো।

বান্দরবান, রাঙামাটির কাপ্তাই আর চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার সংযোগস্থল চন্দ্রঘোনা-রাইখালী ফেরিঘাটে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। প্রায় ১ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্প শুধু একটি সেতু নয় — দশকের পর দশক ধরে ফেরিঘাটে অপেক্ষায় কাটানো লাখো মানুষের স্বস্তির নিঃশ্বাস।

যেমন হবে সেতুটি সওজ রাঙামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, স্টিল-কংক্রিট কম্পোজিট ডেকের এই সেতুর মূল অংশের দৈর্ঘ্য হবে ৫৩২ মিটার। সঙ্গে থাকবে ৪৫৫ মিটার ভায়াডাক্ট এবং ১ হাজার ২৫০ মিটারের বেশি এলিভেটেড সড়ক। চার লেনের এই সেতুতে যুক্ত হবে আধুনিক ‘ব্রিজ স্মার্ট হেলথ মনিটরিং সিস্টেম’ — যা সেতুর স্বাস্থ্য ও স্থায়িত্ব নিরন্তর পর্যবেক্ষণ করবে। থাকবে স্বয়ংক্রিয় টোল প্লাজাও।

বান্দরবান - রাঙামাটি- আঞ্চলিক মহাসড়কের (আর-১৬১) ২১তম কিলোমিটারে নির্মিতব্য এই সেতুর জন্য ৭.৫২ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৩৫ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে চূড়ান্ত নকশা তৈরি শেষে প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুনের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ফেরির যন্ত্রণা, যুগের পর যুগ সেতুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে তিন পাড়ের মানুষের মধ্যে। তবে আনন্দের আড়ালে উঠে আসছে দীর্ঘ বঞ্চনার কথা।

স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল হাসান বলেন, “বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢলে কর্ণফুলীর পানি বাড়লে ফেরির গ্যাংওয়ে আর পন্টুন ডুবে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। রোগী নিয়ে হাসপাতালে ছুটতে গিয়ে কী ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়তে হয়, সেটা শুধু ভুক্তভোগীরাই জানেন।”

রাইখালী বাজারের ব্যবসায়ী তনয় তঞ্চঙ্গ্যার আক্ষেপ, ফেরির ঝামেলায় পাহাড়ি কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে পৌঁছানো যায় না। “অনেক সময় ফেরি বিকল হয়ে মাঝ নদীতে আটকে পড়ে। এই সেতু হলে বান্দরবান-রাঙামাটির সঙ্গে আমাদের ব্যবসার চেহারাটাই বদলে যাবে।”

পর্যটনেও নতুন দিগন্ত সওজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী কীর্তি নিশান চাকমা জানান, এই সেতু শুধু যাতায়াত সহজ করবে না, রাঙামাটি ও বান্দরবানের পর্যটন শিল্পকেও কয়েক গুণ এগিয়ে নেবে। তাঁর ভাষায়, “দুই পার্বত্য জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পের বিকাশে এই সেতু মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।”

কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেনও বলেন, চন্দ্রঘোনায় সেতু এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং দুই জেলার আর্থসামাজিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন আসবে।