• দেশজুড়ে
  • চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের উত্থান: নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ প্রশাসন?

চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের উত্থান: নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ প্রশাসন?

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের উত্থান: নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ প্রশাসন?

মো.মোক্তার হোসেন বাবু,চট্টগ্রাম ব্যুরো:

চট্টগ্রাম নগরীতে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ এই কিশোররা ছিনতাই, মারামারি, মাদকসেবনসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। অথচ এসব বিষয়ে প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নগরীর অলিগলি, স্কুল-কলেজের আশপাশ এবং পার্ক এলাকায় বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত কিশোর গ্যাংয়ের দাপট চোখে পড়ার মতো দৃশ্য। তারা দলবদ্ধভাবে ঘোরাফেরা করে, উচ্চ শব্দে মোটরসাইকেল চালায়, পথচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে এবং সামান্য বিষয়েও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে তারা ধারালো অস্ত্র বহন করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের হাতে মারধর, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনা বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের ‘গ্রুপ’ পরিচিতি দিয়ে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে এসব কিশোররা। নাম-পরিচয়সহ বিভিন্ন গ্যাংয়ের তালিকাও ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মাঝে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে কিশোরদের জটলা, নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং গ্রুপভিত্তিক সংঘর্ষ উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক অবহেলা, সামাজিক অবক্ষয়, প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং মাদকের সহজলভ্যতা কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির প্রধান কারণ। অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকদের অজান্তেই সন্তানরা এসব গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।

একজন সমাজবিজ্ঞানী জানান, “কিশোর বয়সে সঠিক দিকনির্দেশনা না পেলে তারা সহজেই ভুল পথে চলে যায়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই নজরদারি প্রয়োজন।” স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝেমধ্যে অভিযান চালানো হলেও তা নিয়মিত নয় এবং অনেক ক্ষেত্রেই তাৎক্ষণিক। ফলে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা থামছে না। পুলিশের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে অভিযান ও গ্রেপ্তারের খবর এলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কোনো প্রভাব ফেলছে না বলে দাবি নাগরিকদের।

একজন অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানদের নিয়ে এখন ভয় লাগে। স্কুলে পাঠানোর সময়ও চিন্তা করতে হয়।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল আইন প্রয়োগ নয়—কিশোরদের জন্য সচেতনতা কার্যক্রম, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাড়ানো, পরিবারে নজরদারি বৃদ্ধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলিং চালু করা জরুরি।

এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পুলিশ মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে সদস্য গ্রেপ্তার করলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হচ্ছে না। নিয়মিত গ্রেপ্তার সত্ত্বেও নতুন নতুন গ্রুপ তৈরি হচ্ছে। চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া তৎপরতা এখন সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন নগরবাসী।