• দেশজুড়ে
  • তিন বছর পর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে চিকিৎসা সেবা শুরু

তিন বছর পর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে চিকিৎসা সেবা শুরু

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
তিন বছর পর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে চিকিৎসা সেবা শুরু

গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি ॥

চিকিৎসক সংকটে প্রায় তিন বছর যাবত বরিশালের গৌরনদী উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকার পর অবশেষে চিকিৎসা সেবা চালু করা হয়েছে। এনিয়ে গ্রামের চিকিৎসা সেবা প্রত্যাশিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

উপজেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসক সংকট থাকার কারনে প্রায় তিন বছর ধরে এমবিবিএস কোন চিকিৎসক ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রতিদিন যাওয়া সম্ভব হতোনা। চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারী উপজেলা হাসপাতালে নতুন আটজন চিকিৎসক যোগদান করেন। হাসপাতালে চিকিৎসক যোগদানের পরই মফস্বল এলাকার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে রোগীকে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা শুরু হয়েছে।

স্থানীয়রা বিষয়টিকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, মফস্বল এলাকার অনেক দরিদ্র রোগী অসুস্থ থাকলেও অনেক সময় টাকার অভাবে উপজেলা হাসপাতাল পর্যন্ত চিকিৎসার জন্য যেতে পারেননা। এক্ষেত্রে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়মিত চিকিৎসা প্রদান করায় বিনামূল্যে সহজেই গ্রামের মানুষ স্বাস্থ্য সেবা পাবে। এ সেবা চালু রাখা উচিৎ।

বাটাজোর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা প্রদানকরী গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালের ডা. রিদওয়ানা জানান, প্রতিদিন এ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ২০/২৫ জন রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। গ্রামের অনেকেই জানেন না যে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক বসেন। যখন জানতে পারবেন তখন রোগীর সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে।

উপজেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার মো. তৌকির আহমেদ বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তার উদ্যোগে এরইমধ্যে খাঞ্জাপুর, নলচিড়া ও বাটাজোর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রতিদিন একজন করে চিকিৎসক চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। উপজেলা হাসপাতাল থেকে দূরবর্তী স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে রোগী দেখার কাজ শুরু হওয়ায় গ্রামের সাধারণ রোগীরা উপকৃত হচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফখরুল ইসলাম মৃধা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা জনগনের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে গত এক সপ্তাহ ধরে তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন করে চিকিৎসক সরকারী ছুটির দিন ব্যতিত চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছে। তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রতিদিন কমপক্ষে দুইশ’ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি সরবরাহ অনুযায়ী ওষুধ প্রদান করা হচ্ছে। এতে গ্রামের সাধারণ রোগীদের অর্থ ও সময় দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিনিয়ত উপজেলা হাসপাতালে রোগীর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ হাসপাতালে প্রতিদিন কমপক্ষে সাড়ে পাঁচশ’ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা চালু করায় উপজেলা হাসপাতালে কিছুটা হলেও রোগীর চাপ কমে আসবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।