• দেশজুড়ে
  • আইন মানতেই ‘অপরাধ’! কুড়িগ্রামে জেলা পরিষদ কর্মকর্তার “হুমকি-অপমান” ব্যবসায়ীদের অর্ধদিবস অবস্থান ও প্রতিবাদ কর্মসূচি

আইন মানতেই ‘অপরাধ’! কুড়িগ্রামে জেলা পরিষদ কর্মকর্তার “হুমকি-অপমান” ব্যবসায়ীদের অর্ধদিবস অবস্থান ও প্রতিবাদ কর্মসূচি

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
আইন মানতেই ‘অপরাধ’! কুড়িগ্রামে জেলা পরিষদ কর্মকর্তার “হুমকি-অপমান” ব্যবসায়ীদের অর্ধদিবস অবস্থান ও প্রতিবাদ কর্মসূচি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি, আল আমিন

সরকারি নির্দেশনা মেনে নির্ধারিত সময়ের আগেই দোকান বন্ধ করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু সেই ‘দায়িত্বশীলতা’র পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন হুমকি, অপমান আর অশালীন আচরণ—এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘিরে ব্যবসায়ী মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জানা গেছে, গত ৪ এপ্রিল শনিবার বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও জ্বালানি ব্যবহারে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত সময়ের আগেই দোকান বন্ধ করে দেন। কিন্তু অভিযোগ, কিছুক্ষণ পরই জেলা পরিষদের সহকারী কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেন ঘটনাস্থলে এসে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান এবং অশালীন ভাষায় কথা বলেন।

ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজার কমিটির সভাপতি ও অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সামনে ওই কর্মকর্তা হুমকিমূলক আচরণ করেন এবং ব্যবসা পরিচালনায় প্রশাসনিক ‘ব্যবস্থা’ নেওয়ার ভয় দেখান। এতে বাজারে চরম উত্তেজনা তৈরি হয় এবং স্বাভাবিক পরিবেশ ভেঙে পড়ে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে জেলা পরিষদ মার্কেটের সব ব্যবসায়ী দোকানপাট বন্ধ রেখে অর্ধদিবস অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তাদের ভাষ্য, “সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতেই যদি অপমানিত হতে হয়, তাহলে প্রশাসনের প্রতি আস্থা রাখব কীভাবে?”

জেলা পরিষদ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রিপন রহমান বলেন, “আইন মানতে গিয়ে যদি হয়রানির শিকার হতে হয়, তাহলে ব্যবসায়ীরা চরম অনিশ্চয়তায় পড়বে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

এ ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা এবং জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জেলা পরিষদ প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা দ্রুত তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

অন্যদিকে, জেলা পরিষদ প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ জানান, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশ্ন উঠছে-আইন মানার ‘অপরাধে’ যদি অপমানের শিকার হতে হয়, তাহলে মাঠপর্যায়ে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন আদৌ কতটা নিরাপদ? প্রশাসনের দায়িত্বশীলতা আর ক্ষমতার অপপ্রয়োগের সীমারেখা কোথায় ?