• দেশজুড়ে
  • হাওরের মাটিতে সোনালি স্বপ্ন: কিশোরগঞ্জে ভুট্টার বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি।

হাওরের মাটিতে সোনালি স্বপ্ন: কিশোরগঞ্জে ভুট্টার বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি।

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
হাওরের মাটিতে সোনালি স্বপ্ন: কিশোরগঞ্জে ভুট্টার বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি।

হাওরের মাটিতে সোনালি স্বপ্ন: কিশোরগঞ্জে ভুট্টার বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি।

ভোর হতেই কিশোরগঞ্জের হাওর ও চরাঞ্চল জুড়ে এখন কর্মব্যস্ততার চিত্র। তবে এই ব্যস্ততা শুধু ধান কাটার নয়, বরং ভুট্টার বাম্পার ফলন ঘরে তোলার। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কিশোরগঞ্জের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ এখন সোনালি রঙের ভুট্টার দানায় ভরে উঠেছে। ধানের পাশাপাশি ভুট্টা চাষ করে স্থানীয় কৃষকরা নিজেদের ভাগ্য বদলের নতুন পথ খুঁজে পেয়েছেন।

কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্ৰাম, নিকলী, বাজিতপুর, করিমগঞ্জ ও কটিয়াদী উপজেলার বিশাল এলাকাজুড়ে এবার ভুট্টার আবাদ হয়েছে। বছরের অধিকাংশ সময় পানির নিচে থাকা হাওরের জমিগুলো যখন শুকিয়ে যায়, তখন কৃষকরা এসব জমিতে ভুট্টার আবাদ শুরু করেন। এছাড়া কটিয়াদী ও করিমগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলগুলোতেও ভুট্টার বাম্পার ফলন লক্ষ্য করা গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, এ বছর চাষের লক্ষ্যমাত্রা বিগত বছরগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে।

স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে কৃষকরা বুঝতে পেরেছেন যে, শুধুমাত্র ধানের ওপর নির্ভরশীলতা তাদের জন্য অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে আকস্মিক বন্যা ও ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার দুশ্চিন্তা থেকে তারা ভুট্টা চাষের দিকে ঝুঁকেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিকলীর এক কৃষক জানান, “ধান চাষে সার, কীটনাশক ও সেচ খরচ অনেক বেশি। তার ওপর প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয় থাকেই। কিন্তু ভুট্টায় খরচ অনেক কম, আর একবার ভালো ফলন হলে তিনগুণ লাভ পাওয়া যায়। এখন পাইকাররা জমি থেকেই ভুট্টা কিনে নিয়ে যাচ্ছে, বাজারে নিয়ে যাওয়ার ঝামেলাও পোহাতে হয় না।”

কিশোরগঞ্জের উৎপাদিত ভুট্টা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন পোল্ট্রি ও মৎস্য খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ ভুট্টা ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, ভুট্টার বহুমুখী ব্যবহার ও পোল্ট্রি শিল্পের ব্যাপক প্রসারের কারণে এর বাজার চাহিদা আগামী দিনে আরও বাড়বে, যা কিশোরগঞ্জের গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, কৃষকদের প্রণোদনা হিসেবে উন্নত জাতের বীজ এবং আধুনিক সার সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন।

উপ-পরিচালকের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, “আমরা কৃষকদের উৎসাহিত করছি যেন তারা প্রচলিত পদ্ধতি বাদ দিয়ে সারিবদ্ধভাবে আধুনিক পদ্ধতিতে ভুট্টা চাষ করেন। এতে ফলন বৃদ্ধি পায় এবং পরিচর্যা করা সহজ হয়। কিশোরগঞ্জের মাটি ভুট্টা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী, যা আমাদের কৃষকদের স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করছে।”

কিশোরগঞ্জের কৃষি বিভাগের এই সাফল্য শুধু উৎপাদন বাড়াচ্ছে না, বরং এটি জেলার সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করছে। কৃষকদের এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে সঠিক বিপণন ব্যবস্থা ও সহজ শর্তে ঋণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তারা। সরকারের এই উদ্যোগগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে কিশোরগঞ্জ জেলা আগামীতে দেশের অন্যতম ‘ভুট্টার ভাণ্ডার’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে, এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।