বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সিরামপুর মৌজায় বিএনপির নাম ভাঙিয়ে একদল দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজি, লুটপাট, নারী নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে কালাম শিকদার, আউলিয়া শেখ ও মোহাম্মাদ শেখের নেতৃত্বে ১২-১৩ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল তাদের ঘের ও বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এসময় হামলাকারীরা বসতঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। ভয়ে পরিবারের সদস্যরা প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীদের একজন মোহাম্মাদ শেখ ঘরে প্রবেশ করে এক নারীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং তার পরিহিত কাপড় ছিঁড়ে দেয়। এসময় তাকে চুল ধরে টেনে বাইরে এনে মারধর করা হয়। এছাড়া হামলাকারীরা একটি স্বর্ণের চেইন ও একটি মোবাইল ফোন লুট করে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘরের ভেতরে থাকা আইপিএস, ব্যাটারি ও অন্যান্য মালামালসহ প্রায় ৭ লাখ টাকার সম্পদ লুট করা হয়। পরবর্তীতে হামলাকারীরা একটি টিনের ঘর ও তিনটি গোলপাতার ঘরে ডিজেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। হামলার সময় তাদের হাতে লোহার রড, কুড়াল, রামদা ও দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগীরা জানান, তারা দীর্ঘ ১২-১৩ বছর ধরে প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে ঘের করে ভোগ দখল করে আসছিলেন। এ জমি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও থানা প্রশাসনের মাধ্যমে সালিশ হলেও কোনো সমাধান হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, একই দিন রাতে হামলাকারীরা ঘেরে থাকা প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ ও একটি ডিজেল চালিত মেশিন লুট করে নিয়ে যায়। পরদিন গিয়ে দেখা যায়, ঘেরের ডাল, টিউবওয়েল ও বিভিন্ন গাছপালাও তুলে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ভুক্তভোগীরা নিরাপত্তাহীনতায় এলাকা ছাড়ার হুমকির মধ্যে রয়েছেন। এ ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন শেখ মুজিবর রহমান, মরিয়ম বেগম, হাবিবুর হালদার, বিশ্বাস আব্দুল হালিমসহ স্থানীয় কয়েকজন। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চিতলমারীতে দখল-লুটপাট, নারী নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ
দেশজুড়ে
১ মিনিট পড়া
বাগেরহাট প্রতিনিধি: