রাজধানীর তেজগাঁওয়ে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ডেইলি স্টার’ (The Daily Star) ভবনে ভয়াবহ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে আজমির হোসেন আকাশ (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (RAB-৩)। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আকাশ ওই রাতের তাণ্ডবে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
উদ্ধারকৃত সরঞ্জাম ও গ্রেপ্তার অভিযান
র্যাব-৩ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ১৯ ডিসেম্বর গভীর রাতে ডেইলি স্টার ভবনে চালানো ওই নজিরবিহীন হামলায় আকাশ সরাসরি জড়িত ছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় তার হেফাজত থেকে লুণ্ঠিত বেশ কিছু ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুটি মনিটর, একটি সিপিইউ (CPU), একটি হার্ডডিস্ক (Hard Disk), তিনটি ক্যাবল, একটি সুইচ অ্যাডাপ্টার এবং একটি মাউস। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আকাশ ওই ভবনে লুটপাটের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
সেই কালরাতের ভয়াবহতা: এজাহারে যা আছে
মামলার বিবরণী ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৯ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১২টার দিকে ৩৫০ থেকে ৪০০ জন সশস্ত্র দুষ্কৃতকারী একটি বিশাল মিছিল নিয়ে ডেইলি স্টার কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়। তারা সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক ও উত্তেজনাকর স্লোগান দিতে থাকে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে হামলাকারীরা ভবনের প্রধান স্টিল গেট ও সম্মুখভাগের কাঁচের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
তারা ভবনের বিভিন্ন তলায় থাকা আসবাবপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নষ্ট করে এবং পেট্রোল বা দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ (Arson) করে। এ সময় সংবাদকর্মী ও অফিসের নিরাপত্তারক্ষীদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়, যা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর এক নগ্ন হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
৫ কোটি টাকার ক্ষতি ও নগদ অর্থ লুট
হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল অবকাঠামো (Digital Infrastructure) লক্ষ্য করে তছনছ চালায়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, লুণ্ঠিত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে দুই শতাধিক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রফেশনাল ক্যামেরা, দামী লেন্স, সার্ভার (Server), প্রিন্টার এবং স্টুডিওর প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক ডিভাইস (Electronic Device)। এসব সরঞ্জামের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। এছাড়া ভবনের ভেতরের বিভিন্ন লকার ভেঙে আনুমানিক ৩৫ লাখ টাকা নগদ লুটের অভিযোগও করা হয়েছে।
আইনি পদক্ষেপ ও সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর গত ২২ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন (২০০৯), বিশেষ ক্ষমতা আইন (১৯৭৪) এবং নবপ্রণীত ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর বিভিন্ন ধারা সংযুক্ত করা হয়েছে। র্যাব জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় তারা গোয়েন্দা তৎপরতা (Intelligence Wing) এবং সিসিটিভি ফুটেজ (CCTV Footage) বিশ্লেষণের মাধ্যমে দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
র্যাবের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, হামলার নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক বা গোষ্ঠীগত মদত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পলাতক অন্যান্য হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান বর্তমানে জোরালোভাবে অব্যাহত রয়েছে। ধৃত আকাশকে আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় পাঠানো হয়েছে।