আজ বুধবার বিকেলে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত মেজবাহ উদ্দিন নামের শিশুটিকে উদ্ধার করা যায়নি। সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অভিযান শুরু করেন। গর্তের ১২ ফুট নিচে শিশুটি রয়েছে বলে তাঁরা নিশ্চিত হন।
নিখোঁজ শিশু ওই গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলামের ছেলে। নিখোঁজ শিশুর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিশুটির ঘরের ৩০ থেকে ৪০ ফুট দূরে গত ৪–৫ বছর আগে সরকারিভাবে গভীর নলকূপের জন্য গর্ত খোঁড়া হয়। তবে নলকূপ বসানো হয়নি। আজ বিকেলে ওই গর্তে পড়ে নিখোঁজ হয় শিশুটি।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, আজ বিকেল ৪টার দিকে শিশুটি তার বাড়ির পাশে থাকা গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যায়। কীভাবে শিশুটি গর্তে পড়ে গেছে, তা এখনো জানা যায়নি। গর্তটি কতটা গভীর, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের ক্যামেরায় গর্তের ১২ ফুট নিচে শিশুটিকে দেখা গেছে।
কদলপুর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে বলেন, তিন–চার বছর আগে সরকারি প্রকল্পের অধীনে ওই গভীর নলকূপ বসানোর কাজ হয়। পরে নলকূপ বসানো হয়নি। কেন বসানো হয়নি, তিনি সেটি জানেন না।
রাউজান ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আদম আলী ঘটনাস্থল থেকে বলেন, সন্ধ্যার পর খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট কর্মী ও সরঞ্জাম নিয়ে কাজ করছেন। গর্তটির ১২ ফুট নিচে শিশুটিকে দেখা গেছে ক্যামেরায়।
এদিকে এ ঘটনার বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশের লাঠি ব্যবহার করে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
এর আগে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর রাজশাহীর তানোরে পরিত্যক্ত নলকূপের গভীর গর্তে পড়ে যায় দুই বছরের শিশু সাজিদ। মৃত অবস্থায় ৩০ ফুট গভীর গর্ত থেকে প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা সম্ভব হয় তাকে।