• বিনোদন
  • যে দেশে মাস্টার্স শেষে চাকরির অনিশ্চয়তা, সেখানে টিকটক করে ডলার কামানো স্বাভাবিক: অর্ষা

যে দেশে মাস্টার্স শেষে চাকরির অনিশ্চয়তা, সেখানে টিকটক করে ডলার কামানো স্বাভাবিক: অর্ষা

অভিনেত্রী নাজিয়া হক অর্ষা মনে করেন, চাকরির অনিশ্চয়তার কারণে তরুণদের টিকটক করে ডলার আয়ের দিকে ঝুঁকে পড়া স্বাভাবিক। তিনি শিক্ষিত বেকারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
যে দেশে মাস্টার্স শেষে চাকরির অনিশ্চয়তা, সেখানে টিকটক করে ডলার কামানো স্বাভাবিক: অর্ষা

অভিনয়শিল্পী নাজিয়া হক অর্ষা মনে করেন, দেশের বর্তমান বাস্তবতায় তরুণদের টিকটকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আগ্রহী হয়ে ওঠা খুবই স্বাভাবিক। যেখানে মাস্টার্স শেষ করেও চাকরির নিশ্চয়তা নেই, সেখানে টিকটক করে ডলার আয় করাকে তিনি অস্বাভাবিক মনে করেন না। তার মতে, যারা এই প্ল্যাটফর্ম থেকে উপার্জন করছে, তারা বরং স্মার্ট।

শিল্পীর দায়বদ্ধতা ও বর্তমান সংস্কৃতি

অভিনয়শিল্পী নাজিয়া হক অর্ষা নিজেকে একজন শিল্পমানসম্মত কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং তার বিশ্বাস, একজন শিল্পীর সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি। তিনি মনে করেন, শিল্পীর 'ট্যাগ' থাকলে সেই দায়বদ্ধতা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তিনি চান, তার কাজের মাধ্যমে সমাজে একটি ইতিবাচক ছাপ রেখে যেতে, কারণ দর্শকেরা শিল্পীর চরিত্র দ্বারাও প্রভাবিত হন।

টিকটক করে ডলার আয়: একটি স্বাভাবিক বাস্তবতা

সম্প্রতি ঢাকার উত্তরার একটি শুটিং সেটে এহসান এলাহি বাপ্পী পরিচালিত 'মিডলক্লাস ফ্যামিলি' ধারাবাহিকের শুটিংয়ের ফাঁকে প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে অর্ষা বর্তমান তরুণ প্রজন্মের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রতি আসক্তি নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "যে দেশে মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ করেও চাকরি পাওয়া নিয়ে এত অনিশ্চয়তা, সেখানে বাচ্চারা টিকটক করে ডলার কামাবে—এটাই স্বাভাবিক। আমি যদি শুধু অন্যকে নকল করেও ডলার আয় করতে পারি, তাহলে কেন করব না?"।

সৃজনশীল চর্চার অভাব ও বেকারত্ব

অর্ষা মনে করেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে নতুন কোনো বড় আবিষ্কার বা উল্লেখযোগ্য সৃজনশীল চর্চার অভাব রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "দীর্ঘদিন ধরে আমরা শুনছি না নতুন কোনো বড় আবিষ্কারের কথা। হুমায়ূন আহমেদ–পরবর্তী সময়ে কি আমরা অসাধারণ কোনো লেখক পেয়েছি? লম্বা সময় ধরে ভালো কোনো পেইন্টার পেয়েছি?" তার মতে, সমাজে অনেক কিছু 'ট্যাবু' করে রাখায় তরুণদের বিকাশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার চারপাশে ছোট শিশুদের মোবাইল ফোন, ভিডিও গেমস এবং টিকটকে ডুবে থাকতে দেখা যায়। পড়াশোনা বা শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি তাদের আগ্রহ কম, কারণ টিকটকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নকল করেও সহজে আয় হচ্ছে—এই বাস্তবতা তাদের বেশি আকর্ষণ করছে।

শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব নিয়ে উদ্বেগ

অভিনেত্রী টিকটক করে আয় করাকে নেতিবাচক চোখে দেখেন না, বরং উপার্জনকারীদের স্মার্ট বলেই মনে করেন। তিনি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়া শিক্ষিত তরুণদের করুণ চিত্র তুলে ধরেন: "প্রায়ই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর পড়ি, একজন মাস্টার্স বা ডিগ্রি পাস করা ছেলেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরে চা বিক্রি করতে হচ্ছে! ফুসকা বিক্রি করতে হচ্ছে। এসব দেখলে খারাপ লাগে। চা বা ফুসকা বিক্রি করা খারাপ কিছু নয়, কিন্তু মাস্টার্স পর্যন্ত পড়তে পড়তেই তো একজন তরুণের ২৫ বছর চলে যায়। এরপর কয়েক বছর ঘোরাঘুরি করে চাকরি না পেলে পরিবার ও নিজের দীর্ঘ বিনিয়োগের ফলাফল কী দাঁড়ায়?"।

তিনি সতর্ক করে বলেন, "তুলনামূলকভাবে অল্প বয়স থেকেই টিকটক করে আয় করা তরুণেরা নিজেদের জীবনকে আর্থিকভাবে নিরাপদ করে তুলছে। ওরা দেশ–বিদেশে ঘোরাঘুরি করছে, নিজের আয়েই জীবন গুছিয়ে নিচ্ছে। সে তুলনায় শিক্ষিত একজন তরুণ যদি শেষ পর্যন্ত বেকার থেকে যায়, সেটা ভবিষ্যতে আমাদের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠতে পারে।”।

অভিনয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

অভিনয়ের প্রসঙ্গে অর্ষা জানান, পাঁচ বছর আগে মিজানুর রহমান আরিয়ানের পরিচালনায় 'নেটওয়ার্কের বাইরে' ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করে তিনি নতুন করে আলোচনায় আসেন। দর্শকেরা এখনো তার অভিনীত 'তানিয়া' চরিত্রটি মনে রেখেছে। সিনেমাতে যুক্ত হওয়া নিয়ে তিনি এখনই কিছু নিশ্চিত করে বলতে চান না, তবে জানান তার হাতে কিছু গল্প আছে। তিনি বলেন, 'আমি চাই, যে লেভেলের কাজ করেছি, সিনেমার মাধ্যমে সেটা ছাড়িয়ে যেতে। সে জন্য ধৈর্য ধরতে প্রস্তুত। তবে দর্শকদের সামনে শিগগিরই ভালো খবর দিতে চাই।'

Tags: facebook tiktok nazia haque orsha study unemployment