নারী ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গে সেলিমা রহমান বলেন, বাংলাদেশের নারী শিক্ষা ও নেতৃত্ব বিকাশে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা অনস্বীকার্য। আজ নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সাফল্য দেখাচ্ছে, তার পেছনে তার অবদান রয়েছে।
নারীর প্রতি সহিংসতা বা নারী নেতৃত্বকে অস্বীকার করার যে কোনো বক্তব্য বিএনপি সমর্থন করে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ নারী-পুরুষ উভয়কে নিয়েই গঠিত। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণতান্ত্রিক আন্দোলন—সব ক্ষেত্রেই নারীরা সমান ভূমিকা রেখেছে। ভবিষ্যতেও নারীর সম্মান ও অধিকার রক্ষায় বিএনপি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবে।
স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, বেগম খালেদা জিয়া একজন গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে যে সংগ্রাম ও ত্যাগের নজির স্থাপন করেছেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল। তিনি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় আজীবন লড়াই করেছেন এবং বারবার কারাবরণ করেছেন।
তিনি বলেন, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবন ছেড়ে বেগম খালেদা জিয়া জনগণের অধিকার রক্ষায় কঠিন পথ বেছে নিয়েছিলেন। স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হারানোর পর দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি যে রাজনৈতিক সংগ্রামে অবতীর্ণ হন, তা ছিল পাথর-কাঁটায় ভরা।
তবুও তিনি কখনো পিছু হটেননি। বেগম সেলিমা রহমান আরও বলেন, ১/১১-এর সময় দেশ ছাড়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, এ দেশের মানুষই তার সন্তান। জনগণের প্রতি এ ভালোবাসাই তাকে ইতিহাসের উজ্জ্বল নক্ষত্রে পরিণত করেছে।
বক্তব্য শেষে তিনি দেশনেত্রীর আদর্শ, সংযম, ধৈর্য ও দূরদর্শিতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তার ত্যাগকে শক্তিতে রূপান্তর করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে এনআরএফের আহ্বায়ক ও আমার দেশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সদস্য সচিব ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নুরুল আমীন বেপারী ও বিএনপির সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলসহ অন্যরা।