আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোটারদের ভোটাধিকার সুরক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB)। বিশেষ করে উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা দিনাজপুরে নির্বাচনকালীন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দিনাজপুর বিজিবি ৪২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান পুলহাট খুদাবকস কলেজিয়েট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে (Press Conference) এই প্রস্তুতির বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানান, বিজিবি তার পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মাঠ পর্যায়ে বিজিবির বিশেষ মোতায়েন ও স্ট্রাইকিং ফোর্স
দিনাজপুর জেলার ৬টি নির্বাচনী আসনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবার ব্যাপকসংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) ১৯ প্লাটুনসহ জেলায় সর্বমোট ৩৭ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। এই সদস্যরা মূলত ‘Mobile Force’ এবং ‘Striking Force’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অর্থাৎ, যেকোনো স্থানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে বিজিবির এই চৌকস দলটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনবে।
৮৪৪টি ভোটকেন্দ্রে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ
সুষ্ঠু নির্বাচনের রোডম্যাপ অনুযায়ী, দিনাজপুর জেলার ৬টি আসনের মোট ৮৪৪টি ভোটকেন্দ্রের ‘রেকি’ (Reconnaissance) বা প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে বিজিবি। প্রতিটি কেন্দ্রের ভৌগোলিক অবস্থান এবং স্পর্শকাতরতা বিবেচনা করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। ২৯ জানুয়ারি থেকে জেলার প্রতিটি উপজেলায় একযোগে ১৩টি বেইস ক্যাম্প (Base Camp) স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুর শহরের কেবিএম কলেজিয়েট হাইস্কুলে বিজিবির একটি গুরুত্বপূর্ণ বেইস ক্যাম্প স্থাপনের কাজ বর্তমানে চলমান।
নিরপেক্ষতা ও ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি
নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিজিবি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে বলে বিজিবি অধিনায়ক দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের (EC) সব নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। সব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য ‘Level Playing Field’ নিশ্চিত করতে বিজিবি বেসামরিক প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করবে।” ভোটাররা যেন নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটিই হবে বিজিবির মূল লক্ষ্য।
সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ দায়িত্ব
নির্বাচনী দায়িত্বের পাশাপাশি সীমান্ত সুরক্ষা বিজিবির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিজিবি জানায়, নির্বাচন চলাকালীন সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে যাতে বহিঃশত্রুর কোনো প্রভাব বা চোরাচালানের মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত না হয়। পেশাদারিত্বের মাধ্যমে সংবিধান ও আইনের আলোকে বিজিবি তার অর্পিত দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বস্ত করেছেন বাহিনীর এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
দিনাজপুরের এই নিরাপত্তা তৎপরতা পুরো জেলার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুষ্ঠু, অবাধ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে বিজিবির এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।