মোংলা বন্দরে পশুর নদীর বুকে নৌ পুলিশের একটি হাই-স্পিড বোটে (High-speed Boat) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মোংলার দিগরাজ সংলগ্ন বাজুয়া ঘাট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বোটের চালক ও নৌ পুলিশের সদস্য কাজী মাহবুব (২৮) শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আকস্মিক অগ্নিকাণ্ড
মোংলা নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে নৌ পুলিশের একজন অতিরিক্ত ডিআইজি (Additional DIG) মোংলা সফরে আসার কথা রয়েছে। তার প্রটোকল ও নিয়মিত টহল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে হাই-স্পিড বোটটি প্রস্তুত করা হচ্ছিল। বুধবার সন্ধ্যায় বোটের চালকসহ দুজন সদস্য জ্বালানি তেল (Fuel) সংগ্রহের জন্য মোংলা উপজেলার দিগরাজ বাজুয়া ঘাটে যান। জ্বালানি সংগ্রহ শেষে বোটটি পুনরায় স্টার্ট দেওয়ার সময় ব্যাটারির সংযোগস্থলে হঠাৎ একটি বৈদ্যুতিক স্পার্ক (Battery Spark) তৈরি হয়। বোটে থাকা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের সংস্পর্শে আসায় মুহূর্তেই আগুন পুরো ভেসেলটিতে ছড়িয়ে পড়ে।
জীবন বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ ও উদ্ধার অভিযান
আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বোটে থাকা এক পুলিশ সদস্য তাৎক্ষণিক সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও চালক কাজী মাহবুব আগুনের লেলিহান শিখায় দগ্ধ হন। স্থানীয় জনতা ও সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মোংলা বন্দর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে দগ্ধ হওয়ার মাত্রা এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (Khulna Medical College Hospital) স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ক্ষয়ক্ষতি ও প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণ
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের (Fire Service) একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় এবং দাহ্য পদার্থের উপস্থিতির কারণে মূল্যবান বোটটি প্রায় সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে মোংলা নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (OC) এ এইচ এম লুৎফার কবির সংবাদমাধ্যমকে জানান, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং জ্বালানি তেলের আগুনের কারণেই দুর্ঘটনাটি এত দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় আগুন নেভানো সম্ভব হলেও বোটটি রক্ষা করা যায়নি। আহত পুলিশ সদস্যের সুচিকিৎসার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
পশুর নদীর মতো ব্যস্ততম নৌপথে এ ধরনের দুর্ঘটনা নৌ পুলিশের নিরাপত্তা সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ ও অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।