বর্জ্য সংগ্রহে গাফিলতি ও মেয়রের হুঁশিয়ারি
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এলাকার একাধিক ওয়ার্ড থেকে মেয়রের কাছে অভিযোগ এসেছে যে, তিন থেকে চার দিন পার হলেও নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে না। এই অনিয়ম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এ ধরনের গাফিলতি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে নিয়োজিত সুপারভাইজাররা দায়িত্বে অবহেলা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দায়িত্বে সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব কর্মীরাই প্রধান
ডোর টু ডোর বর্জ্য সংগ্রহের জন্য চসিকে দুই থেকে আড়াই হাজার কর্মী নিয়োজিত আছে। মেয়র স্পষ্ট করে বলেন, ঘরে ঘরে গিয়ে ময়লা সংগ্রহ করাই তাদের মূল দায়িত্ব। ভেন্ডার বা এজেন্টরা কেবল সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে। মূল দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের নিজস্ব কর্মীদেরই পালন করতে হবে।
চুক্তি বাতিল ও সরাসরি কর্মী নিয়োগের নির্দেশ
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন কড়া নির্দেশ দিয়ে বলেন, কোনো এলাকায় যদি ভেন্ডার বা এজেন্টরা কাজ না করে, তবে চসিকের কর্মীরা সরাসরি সেখানে গিয়ে ময়লা তুলবেন। প্রয়োজনে দায়িত্বে অবহেলাকারী ভেন্ডারদের চুক্তি বাতিল করা হবে।
ডাস্টবিন পুনঃস্থাপন ও গাড়ি চালনা নিয়ে কঠোরতা
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়ে মেয়র বলেন, কোথাও ময়লা না তুললে সুপারভাইজারদের সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে কারণ জানতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ডাস্টবিন পুনঃস্থাপন করতে হবে, তবে পুরোনো ডাস্টবিন অপসারণ করা যাবে না; যেভাবে ছিল, সেভাবেই 'রিপ্লেসমেন্ট' দিতে হবে। এছাড়াও, বর্জ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত গাড়ি চালনা নিয়েও কঠোর অবস্থান নেন তিনি। কোনো অবস্থাতেই হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না। ড্রাইভারের বদলে হেলপারকে গাড়ি চালাতে দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট ড্রাইভারের চাকরি চলে যাবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
জনবল বণ্টন ও মশক নিয়ন্ত্রণ
জনবল বণ্টনের ক্ষেত্রে ওয়ার্ডের আয়তন ও জনসংখ্যা অনুযায়ী পরিচ্ছন্ন কর্মী বিতরণের নির্দেশ দেন মেয়র। কোথাও প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কর্মী আবার কোথাও কম কর্মী—এই অসামঞ্জস্য দ্রুত সংশোধনের নির্দেশ দেন তিনি। মশক নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে মেয়র জানান, শুধু ওষুধ ছিটালেই হবে না, বর্জ্য অপসারণের মাধ্যমে আগে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। বর্জ্য অপসারণের সঙ্গে মশক নিধন কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনা করলেই কার্যকর ফল পাওয়া যাবে।
সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি এবং উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা প্রমুখ।