গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকাল ৫টা ২৫ মিনিটের সময় শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ময়মনসিংহ অঞ্চল পরিচালক ড. ছামিউল হক ফারুকী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জামালপুর জেলা জামায়াতের সাবেক আমির নাজমুল হক সাঈদী, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য শেরপুর জেলা আমির হাফিজুর রহমান, শেরপুর-৩ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার লিখন মিয়া, খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল হালিম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক ইউসুফ ইসলাহী, শিবিরের শেরপুর জেলা সভাপতি আশরাফুজ্জামান মাসুম প্রমুখ। এরপর রাত সাড়ে ৮টায় শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের গোপালখিলা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে নিজ গ্রামে দাফন করা হয়। এতে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে জানাজায় অংশগ্রহণ ও ইমামতি করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাবেক এমপি মাওলানা আ ন ম শামছুল ইসলাম।
এ সময় তিনি বলেন, শহীদ রেজাউল করিমকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
জানাজায় আরও উপস্থিত ছিলেন- জামায়াত কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জামালপুর জেলা আমির মাওলানা আব্দুস সাত্তার, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও শেরপুর জেলা আমির হাফিজুর রহমান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি লস্কর মো. তসলিম, এনসিপির শেরপুর জেলা আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার লিখন মিয়া, ইদ্রিসিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা ফজলুল করিম, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও শেরপুর-১ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের সংসদ সদস্য প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, শেরপুর-৩ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল প্রমুখ।
নিহত রেজাউল করিম (৪২) শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের চাউলিয়া এলাকার মাওলানা আব্দুল আজিজের ছেলে। তিনি উপজেলার ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলা সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি বাবা, স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে এবং দুই ভাই ও দুই বোনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী গেছেন।
এর আগে, গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনের ঝিনাইগাতী উপজেলায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে এটি সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হন। ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
এদিকে আজ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টার সময় কলেজ মোড়ে শহীদ মাওলানা রেজাউল করিমের হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হবে।