• রাজনীতি
  • একাত্তরের ভুলের জন্য ক্ষমা চায়নি জামায়াত, তারা ভোট চায় কোন মুখে: ঠাকুরগাঁওয়ে ফখরুলের প্রশ্ন

একাত্তরের ভুলের জন্য ক্ষমা চায়নি জামায়াত, তারা ভোট চায় কোন মুখে: ঠাকুরগাঁওয়ে ফখরুলের প্রশ্ন

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
একাত্তরের ভুলের জন্য ক্ষমা চায়নি জামায়াত, তারা ভোট চায় কোন মুখে: ঠাকুরগাঁওয়ে ফখরুলের প্রশ্ন

নির্বাচনী পথসভায় ইতিহাস ও উন্নয়নের রোডম্যাপ তুলে ধরলেন বিএনপি মহাসচিব; ‘প্রতিহিংসা নয়, নতুন বাংলাদেশের’ বার্তা দিয়ে চাইলেন ধানের শীষে ভোট।

নির্বাচনী উত্তাপে যখন ভাসছে পুরো দেশ, ঠিক তখনই দীর্ঘ ১৬ বছর পর নিজের নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ে ফিরে জামায়াতে ইসলামীর কড়া সমালোচনা করলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও-১ আসনের চণ্ডীপুর বাজারে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা একাত্তরের ভূমিকার জন্য আজ পর্যন্ত জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি, তারা কোন নৈতিকতায় জনগণের কাছে ভোট চায়?

ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে জামায়াতকে আক্রমণ

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করেন। তিনি বলেন, “জামায়াত শুধু একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধেরই বিরোধিতা করেনি, ১৯৪৭ সালে তারা পাকিস্তানেরও বিরোধিতা করেছিল। অর্থাত্ তারা কোনো সময়েই এই ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করেনি। যে দল বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের অস্তিত্বেই বিশ্বাসী ছিল না, তারা দেশের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করবে?”

তিনি তরুণ ভোটারদের ইতিহাস পড়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বইপত্রে এর সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। যারা রাষ্ট্রকেই বিশ্বাস করেনি, তারা ক্ষমতায় গেলে দেশ কি ভালো থাকবে? এমন প্রশ্ন আজ সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।”

জুলুমের বিচার ও ব্যক্তিগত ত্যাগের বয়ান

বিগত সরকারের শাসনামলকে ‘জুলুমবাজ’ আখ্যা দিয়ে মির্জা ফখরুল তার ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বিগত ১৬ বছর আমি আপনাদের সামনে আসতে পারিনি। আমার বিরুদ্ধে ১১৭টি মামলা (False Cases) দেওয়া হয়েছে। আমাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে ময়লার গাড়ি পোড়ানোর মতো হাস্যকর অভিযোগে। অথচ আমার সারাজীবনের রাজনীতি ছিল মানুষের জন্য।”

নিজের সততা ও স্বচ্ছতা প্রমাণে তিনি আরও বলেন, “আমি বাপদাদার জমি বিক্রি করে রাজনীতি করেছি। ঢাকায় আমি যে গাড়িটি ব্যবহার করি তা ২০ বছরের পুরনো। আজ আপনাদের সামনে যে গাড়িতে চড়ে এসেছি, সেটিও আমার নয়, এক সমর্থকের দেওয়া। এটাই বিএনপির আদর্শ।”

প্রতিহিংসা নয়, ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশে প্রতিহিংসার রাজনীতির সংস্কৃতি বন্ধ করার ঘোষণা দেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “আমরা প্রতিহিংসা কিংবা প্রতিশোধে বিশ্বাস করি না। এটাই তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপির মূল দর্শন। আমরা চাই একটি সুস্থ ধারার রাজনীতি (Healthy Politics), যেখানে সবাই নিরাপদে থাকবে।”

তিনি উল্লেখ করেন, স্বৈরাচার পতনের পরপরই ঠাকুরগাঁওয়ে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প (Development Projects) বরাদ্দ করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের জন্য উন্নয়নের ভিশন

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য একগুচ্ছ উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, নির্বাচনে জয়ী হলে ঠাকুরগাঁওয়ে একটি অত্যাধুনিক এয়ারপোর্ট (Airport) এবং একটি বিশ্বমানের মেডিক্যাল কলেজ (Medical College) নির্মাণ করা হবে।

কর্মসংস্থান (Job Creation) ও নারীদের স্বাবলম্বী করার বিষয়ে তিনি বলেন, “তারেক রহমানের বিশেষ পরিকল্পনায় আমাদের মা-বোনদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ (Training) দেওয়া হবে, যাতে তারা ঘরে বসেই আয় করতে পারেন। বেকারত্ব দূর করাই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

ভোটারদের প্রতি আহ্বান

বক্তব্যের শেষে মির্জা ফখরুল ভোটারদের সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার গুরুত্ব মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, “আপনারা অনেক বছর ভোট দিতে পারেননি। এবার সুযোগ এসেছে একটি ভুল করলে আমাদের আবারও পিছিয়ে পড়তে হবে। তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে এবং এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাকে সংসদে পাঠান।”

Tags: tarique rahman bangladesh politics mirza fakhrul job creation election rally bnp news dhaner sheesh thakurgaon election jamaat criticism development projects