এআই আসক্তিই হলো কাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (আগের টুইটার)-এ ডেটিং কোচ ব্লেন অ্যান্ডারসন এই ঘটনাটি প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ওই তরুণীর প্রেমিক ছিলেন চল্লিশের কোঠার শেষ দিকে থাকা এক ব্যক্তি, যিনি চ্যাটজিপিটির প্রতি এতটাই আসক্ত ছিলেন যে তার জীবনযাপন প্রায় এআই-নির্ভর হয়ে গিয়েছিল। এই আসক্তিই শেষ পর্যন্ত তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।
ডেটে কথোপকথন চ্যাটজিপিটির সঙ্গে ডেটে গিয়েও ওই প্রেমিক তার প্রেমিকার দিকে মনোযোগ না দিয়ে বারবার চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথোপকথনে মগ্ন থাকতেন। ককটেলের ইতিহাস থেকে শুরু করে নানা ধরনের অজানা তথ্য তিনি চ্যাটজিপিটির কাছে জানতে চাইতেন এবং পাওয়া উত্তরগুলো উচ্চস্বরে প্রেমিকাকে পড়ে শোনাতেন। একপর্যায়ে রাত গভীর হলে বিরক্ত হয়ে প্রেমিকা তাকে অনুরোধ করেন ফোন সরিয়ে তার দিকে মন দিতে।
যে প্রশ্নে ফাঁস হলো গোপন জীবন প্রেমিকার অনুরোধের জবাবে প্রেমিক মজা করে বলেন, “চ্যাটজিপিটি আর আমি খুব ভালো বন্ধু। তুমি বরং আমার সম্পর্কে যা খুশি জিজ্ঞেস করো।” প্রেমিক তখন এই সুযোগ কাজে লাগান। তিনি চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞাসা করেন, “আমাকে এমন কিছু বলো, যা তুমি অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করবে না। আর আমার কোন বিষয়টা তোমার সত্যিই ভালো লাগে?”
চ্যাটজিপিটির উত্তর শুনেই মুহূর্তে সব পরিষ্কার হয়ে যায়। এআই জানায়, “আমার সবচেয়ে ভালো লাগে, আপনি আপনার স্ত্রীর প্রতি এত যত্নশীল একজন স্বামী এবং আপনার সন্তানদের কাছে একজন স্নেহশীল বাবা।”
প্রশংসার মাধ্যমেই প্রকাশ পেল প্রতারণা চ্যাটজিপিটির এই এক উত্তরে প্রেমিকার সামনে সম্পূর্ণরূপে ফাঁস হয়ে যায় প্রেমিকের গোপন জীবন। বিবাহিত হওয়া এবং সন্তানের বাবা হওয়ার সত্য সামনে আসতেই চরম বেকায়দায় পড়েন ওই ব্যক্তি। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, কেউ কেউ মনে করছেন, এ ধরনের প্রতারণামূলক সম্পর্কের মুখোশ খুলতে চ্যাটজিপিটি কার্যকর একটি ‘হাতিয়ার’ হয়ে উঠতে পারে।